‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’কে ট্রাম্পের ‘ডেডলক’ বলে কটাক্ষ ইরানের

২৭

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’কে সরাসরি ‘প্রজেক্ট ডেডলক’ বলে খোঁচা দিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ দেয় ইরান। পাল্টা জবাবে ১৩ এপ্রিল ইরানি বন্দর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এরই মধ্যে উপসাগরে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হরমুজ দিয়ে বের করে আনতে সোমবার (৪ মে) সকাল থেকে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান শুরু করেছে পেন্টাগন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এই অভিযানে থাকছে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, শতাধিক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন, সমুদ্রভিত্তিক আকাশযান এবং প্রায় ১৫ হাজার সেনা। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতেই এই উদ্যোগ।

কিন্তু তেহরান একে দেখছে উল্টো চোখে। এক্স-এ দেওয়া পোস্টে আব্বাস আরাগচি লিখেছেন, ‘হরমুজের ঘটনাগুলো প্রমাণ করে দিয়েছে—রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। প্রজেক্ট ফ্রিডম আসলে প্রজেক্ট ডেডলক, অচলাবস্থা ছাড়া কিছুই নয়।’ তিনি আরও যোগ করেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা যখন এগোচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত কুচক্রী মহলের ‘কাদাজলের ফাঁদে’ পা না দেওয়া। সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও একই সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর রাজনৈতিক শাখার উপপ্রধান ইয়াদুল্লাহ জাভানি আরও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আইএসএনএ-কে তিনি বলেন, ‘হরমুজে আমেরিকার যেকোনো হস্তক্ষেপ ইরানের সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করা হবে। ৪০ দিনের যুদ্ধের সময় ও পরে যুক্তরাষ্ট্র নানা পথে চেষ্টা করেও সফল হয়নি। ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা এখন হরমুজ খুলে দেওয়া।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ নিয়ে এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিকে বড় ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। বিশ্বের তেল সরবরাহের প্রায় ২০% এই প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে এখানে যেকোনো সংঘাত মানেই বৈশ্বিক বাজারে আগুন।

ওয়াশিংটন বলছে ‘ফ্রিডম’, তেহরান বলছে ‘ডেডলক’—হরমুজের জল তাই আপাতত আরও ঘোলা।

সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি, আনাদোলু এজেন্সি