ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে আবার ঝরল তাজা প্রাণ, ঘাতক চালক পলাতক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: দেশের মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিত গতি ও বেপরোয়া গাড়ি চালনার বলি হলেন একই পরিবারের মা-ছেলেসহ তিন ব্যক্তি। শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের বিয়াল্লিশহর এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে মাছভর্তি একটি দ্রুতগামী পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় নিমিষেই ধুলিসাৎ হয়ে গেছে একটি সচ্ছল পরিবার; গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন পরিবারের বাকি দুই সদস্য।

নিহতরা হলেন—কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের কাউসারের স্ত্রী জোসনা বেগম (৪০), তাদের ৫ বছর বয়সী শিশুপুত্র আশরাফুল এবং অটোরিকশাচালক মাহবুব (৪৫)

এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন জোসনা বেগমের স্বামী কাউসার (৫০) ও তাদের ৪ বছরের কন্যাসন্তান আদিবা

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সকালে কসবা থেকে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে সরাইল-বিশ্বরোডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন কাউসার। সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে অটোরিকশাটি কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বিয়াল্লিশহর এলাকা অতিক্রম করার সময় পেছন থেকে আসা একটি বেপরোয়া গতিসম্পন্ন মাছভর্তি পিকআপ ভ্যান এটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে মহাসড়কের পাশে ছিটকে পড়ে।

স্থানীয় জনতা ও হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আরোহীদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত কাউসার ও তার শিশুকন্যা আদিবার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

“পেছন থেকে আসা পিকআপটি অটোরিকশাটিকে কোনো সুযোগ না দিয়েই ধাক্কা দেয়। মহাসড়কে এই ধরণের ছোট যানবাহনের নিরাপত্তা এবং বড় গাড়িগুলোর বেপরোয়া গতি দিন দিন আমাদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।” > — ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন স্থানীয় বাসিন্দা

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে।

তবে দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক পিকআপ ভ্যানের চালক ও তার সহযোগী (হেলপার) গাড়ি ফেলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ওসি আরও জানান, পলাতকদের আটকে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে প্রতিনিয়ত থ্রি-হুইলার ও দূরপাল্লার দ্রুতগামী যানবাহনের এই অসম প্রতিযোগিতা এবং চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াত অনিরাপদ হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হাইওয়ে পুলিশের কঠোর নজরদারি ও আইনের সঠিক প্রয়োগই কেবল এই ধরনের অকাল মৃত্যু ঠেকাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।