মার্কিন হামলায় কাঁপল ইরানের ‘মিসাইল সিটি’ কেশম দ্বীপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ও চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেই ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৩ জুন) চালানো এই হামলাকে ‘আত্মরক্ষামূলক’ অভিযান বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। অন্য দিকে, হামলার পর দ্বীপটিতে দফায় দফায় বিকট বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে ইরানি গণমাধ্যম।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপে চালানো এই হামলা আসলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক স্থাপনায় ইরানের কথিত হামলার চেষ্টার জবাব।

মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, কেশম দ্বীপে তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল একটি ইরানি সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগ কেন্দ্র। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা দিয়ে চলাচলকারী বেসামরিক জাহাজের দিকে ধেয়ে যাওয়া ইরানের তিনটি আত্মঘাতী ড্রোনও ভূপাতিত করার দাবি করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর যে সক্ষমতা ইরানের রয়েছে, সেটাকে ভেঙে দেওয়া।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একসময় শান্তিপূর্ণ মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল, আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র এবং ইউনেস্কো স্বীকৃত জিওপার্কের জন্য বিখ্যাত ছিল প্রায় ১ হাজার ৪৪৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই কেশম দ্বীপ। উপসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে বড় এই দ্বীপটি এখন রূপান্তরিত হয়েছে ইরানের সম্মুখসারির এক সামরিক দুর্গে।

কৌশলগত অবস্থানের কারণে সামরিক বিশ্লেষকরা কেশম দ্বীপকে ইরানের এমন এক ‘বিমানবাহী রণতরী’ হিসেবে বিবেচনা করেন, যাকে কখনোই ডুবিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ নিয়ন্ত্রণ করে এই দ্বীপ। এর ভূ-পৃষ্ঠের নিচে রয়েছে এক বিশাল ও জটিল সামরিক নেটওয়ার্ক।

  • ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও লবণ গুহা: দ্বীপটির গোলকধাঁধার মতো লবণ গুহাগুলোতে উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও দ্রুতগতির আধুনিক আক্রমণকারী নৌযান গোপনে লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

  • মিসাইল সিটি: দ্বীপটির মাটির নিচে গড়ে তোলা হয়েছে ইরানের আধুনিক ‘মিসাইল সিটি’ বা ক্ষেপণাস্ত্র নগরী।

  • নৌযুদ্ধকেন্দ্র: হরমুজের কোলঘেঁষে থাকা দ্বীপটির ভূগর্ভে নৌযুদ্ধকেন্দ্রিক উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা স্থাপন করেছে ইরান, যার প্রধান উদ্দেশ্য হলো যেকোনো প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালিতে পশ্চিমা জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া।

কেশম দ্বীপকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে ইরান অতীতেও হরমুজ প্রণালিতে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের চলাচল সীমিত বা বাধাগ্রস্ত করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। ফলে এই দ্বীপে মার্কিন হামলার ঘটনাটি চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যকে এক নতুন ও দীর্ঘমেয়াদী সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।