অস্তিত্ব সংকটে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল, ৫০ বিধায়কের ভাঙনের গুঞ্জন

৪২

পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ভাঙনের গুঞ্জন উঠেছে। দলের বহিষ্কৃত জাতীয় মুখপাত্র রিজু দত্ত দাবি করেছেন, প্রায় ৫০ জন বিধায়ক দল ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা শেষ পর্যন্ত জোড়াফুল প্রতীকও দাবি করতে পারেন।

ইন্ডিয়া টুডেকে রিজু দত্ত বলেন, নবনির্বাচিত বিধায়কদের একটি অংশ বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে চায় এবং তাদের অংশকেই ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। তবে তার দাবি অন্য সূত্রে নিশ্চিত হয়নি।

১৯৯৮ সালে দল গঠনের পর সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে তৃণমূল। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনে জাল স্বাক্ষরের অভিযোগ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার এবং প্রবীণ নেতাদের অসন্তোষে বিদ্রোহের গুঞ্জন জোরালো হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) ফেসবুক লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের ভেতরের ফাটল স্বীকার করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিধায়কদের পুলিশ দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। প্রবীণ নেতা কুণাল ঘোষ বিদ্রোহীদের ‘বিভ্রান্ত না হওয়ার’ অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ঋতব্রত গোপন বৈঠক করে দলে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছেন।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য আলাদা দল গঠনের কথা অস্বীকার করেছেন। এবিপি আনন্দকে তিনি বলেন, ‘তৃণমূলে কথা বলার জায়গা নেই। দলটি বিলুপ্ত হওয়ার পথে।’

গত ৩১ মে মমতার ডাকা বৈঠক ৮০ জনের মধ্যে ৬০ জন বিধায়ক এড়িয়ে যান। দল ভাঙতে দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে দুই-তৃতীয়াংশ বা ৫৩ জন বিধায়কের সমর্থন লাগে, যা রিজুর দাবি করা ৫০ জনের কাছাকাছি।

বিরোধী দলনেতা নির্বাচনে স্বাক্ষর জালের অভিযোগ তুলে সরব হওয়ায় ঋতব্রত ও সন্দীপনকে বহিষ্কার করা হয়। ২০২০ সালে তৃণমূলে যোগ দেওয়া ঋতব্রত ২০২৬ সালে উলুবেড়িয়া পূর্ব থেকে জয়ী হন। বহিষ্কারের পর তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে বলেন, ‘যে দলে পরাজয়ের পরও সাধারণ সম্পাদককে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে হয়, সেখানে কথা বলার সুযোগ নেই।’