যৌন সহিংসতার দায়ে ইসরায়েলকে জাতিসংঘের কালো তালিকায়

৩২

সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যৌন সহিংসতার দায়ে ইসরায়েলকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করেছে জাতিসংঘ। এর প্রতিবাদে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে তেল আবিব।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা ভিডিও বার্তায় বলেন, “এই মহাসচিবের সঙ্গে আমাদের সব সম্পর্ক শেষ।”

জাতিসংঘের বার্ষিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে পাঠানো হয়। গত আগস্টের এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলকে তালিকায় রাখার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।

ড্যানন জাতিসংঘের সিদ্ধান্তকে ‘অত্যন্ত জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে আমাদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা ব্যবহারের অভিযোগ ও কালো তালিকাভুক্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হামাস সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আমাদের একই তালিকায় রাখা যায় না।” ইসরায়েলি মিশন জানিয়েছে, গুতেরেস শীর্ষ পদে থাকা পর্যন্ত তার কার্যালয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখবে না ইসরায়েল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওরেণ মারমরস্টেইনও একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও লজ্জাজনক’ বলেছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানান, ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য সম্পর্কে তারা অবগত। তবে আলোচনার জন্য মহাসচিবের দরজা সব সময়ই উন্মুক্ত।

এদিকে নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত রিম আলসালেম সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করার এই সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল। ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর পদ্ধতিগত ও ভয়াবহ যৌন সহিংসতার ঘটনাগুলো স্বাধীনভাবে নথিবদ্ধ ও প্রমাণিত।”

জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, ইসরায়েলি কারাগার ও আটক কেন্দ্রগুলোতে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর যৌন সহিংসতার ‘নির্ভরযোগ্য প্রমাণ’ পাওয়া গেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর আটক ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি রক্ষীদের হাতে অমানবিক নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। গাজাগামী ত্রাণবাহী জাহাজের মুক্ত হওয়া অধিকারকর্মীরাও হেফাজতে থাকাকালে অন্তত ১৫টি পৃথক যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের বিবরণ দিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক নিকোলাস ক্রিস্টফের অনুসন্ধানেও ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তবে ইসরায়েল সব অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার ঘোষণা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজায় নৃশংসতার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের ক্রমাগত নিন্দায় দুই পক্ষের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। ২০২৪ সালে গুতেরেসকে ইসরায়েলে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করেছিল তেল আবিব।