‘ওরা কি আমাদের জামাই? খাবার-কাপড় দেব কেন’: অবৈধ বাংলাদেশিদের নিয়ে শুভেন্দু

২৮

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে তৎপরতা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার গড়ার নির্দেশিকার পর সীমান্তে ভিড় করছেন ভারতে অবৈধভাবে থাকা বাংলাদেশিরা।

সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যার পর থেকে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর থানার বিথারী হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হাকিমপুরে বিএসএফ চেকপোস্ট এলাকায় জড়ো হচ্ছেন অনুপ্রবেশকারীরা। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে এ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় আরও অনেকে ভিড় করেন। নারী, পুরুষ ও শিশুরাও রয়েছেন সেখানে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তার সরকার ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি নিয়েছে। তিনি জানান, সিএএ’র আওতায় না থাকা ব্যক্তিরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। রাজ্য পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করবে।

ইতোমধ্যে মালদহে ৯ জন ও মুর্শিদাবাদে ৩ জনকে হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে বিএসএফের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে তাদের ডিপোর্ট করা হবে।

সীমান্তে জমায়েত প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এই লোকগুলোর চলে যাওয়াই উচিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখছিলাম ওদের দেশ থেকে বলা হচ্ছিল বাংলাদেশি নাগরিকদের ফিরিয়ে নেবেন। তাই এদের ফিরিয়ে নেওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “পুলিশকে বলে দিয়েছি, এই মানুষগুলোকে কারাগারে পাঠানোর দরকার নেই। দেশের রুপিতে খাবার খাবে, কাপড় দেব, ওষুধ দেব, তারা কি আমাদের জামাই হয়? জলদি জলদি ভাগো, নেহি তো জো করনা হ্যায়, সরকার করেগা।”

শুভেন্দু বলেন, “পরিষ্কার বলে দিয়েছি বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আদালতে পাঠানোর দরকার নেই। সরাসরি পুলিশ নেবে এবং বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করবে। বিএসএফ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশি প্রমাণিত করে হস্তান্তর করবে। আমাদের কারাগারে তিন মাস, ছয় মাস, দুই বছর রেখে আপনার চাল, ডাল, তেল, মাছ, ডিম তাদের দেব কেন? এতে ভারতীয়দেরই ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের রাজ্যের ক্ষতি হচ্ছে।”