শনিবার সারাদেশে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’

২৮

তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ খেলোয়াড় তুলে আনতে শনিবার দেশজুড়ে যাত্রা শুরু করছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে ভার্চুয়ালি সব জেলা স্টেডিয়ামের হাজারো প্রতিযোগীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’র সফলতার পথ ধরে আগামী দিনের ক্রীড়াবিদ তৈরির শক্তিশালী মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’কে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা খুঁজে বের করা, বাছাই করা এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এবং দলগত চেতনা, নেতৃত্ব ও শৃঙ্খলাবোধ বাড়াতে খেলাধুলার ভূমিকা অনস্বীকার্য বলেও মনে করছেন তারা।

এবারের মেগা ক্রীড়াযজ্ঞে থাকছে আটটি ইভেন্ট— ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট। স্বল্প সময়ের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ১২ থেকে ১৭ এপ্রিলের মধ্যে সারাদেশ থেকে অনলাইনে নাম লিখিয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৯ জন কিশোর-কিশোরী। এর মধ্যে কিশোর ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৬ জন এবং কিশোরী ৪৪ হাজার ১৩৩ জন। জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ১৫ হাজার ৩২৪ জন নিবন্ধন করেছে সিলেটে। এরপর চট্টগ্রামে ৯ হাজার ৩০৫ এবং ঢাকায় ৮ হাজার ৮৯৬ জন। উপজেলা পর্যায়ে দল গঠন ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ১৩ থেকে ২২ মে পর্যন্ত চলবে অঞ্চল ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানান, সুসংগঠিত কাঠামোর মধ্য দিয়ে এই প্রতিযোগিতা পরিচালিত হবে এবং সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইউনিয়ন ও সিটি কর্পোরেশন ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু হয়ে উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক ধাপ পেরিয়ে সেরারা জাতীয় পর্যায়ে লড়বে। পুরো দেশকে ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ— এই ১০টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি ধাপে প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কমিটি পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করছে, যাতে কোনো মেধা উপেক্ষিত না হয়।

প্রতিযোগিতার ফরম্যাট অনুযায়ী ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনে নকআউট পদ্ধতিতে খেলা হবে। দাবা হবে আন্তর্জাতিক মানের সুইস লিগ পদ্ধতিতে। অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টে প্রাথমিক বাছাই বা হিটের পর ফাইনাল রাউন্ডে ফল নির্ধারণ হবে।

অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ দিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নির্ধারিত হারে ভাতা দেবে। জেলা পর্যায় থেকে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে জার্সি দেওয়া হবে এবং প্রতিটি ধাপে সনদপত্র দেওয়া হবে। জাতীয় পর্যায়ে বাছাই হওয়া সেরা খেলোয়াড়দের জন্য থাকবে দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। এর মাধ্যমে প্রতিভাবানদের বিকেএসপিতে ভর্তির পথও খুলবে।

প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় তিনটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানান, চূড়ান্ত পর্বে নির্বাচিতদের বিকেএসপিতে ভর্তি ও বিশেষ ক্রীড়া বৃত্তির আওতায় আনা হবে। ঢাকার ওপর চাপ কমাতে চট্টগ্রামসহ অন্যান্য আঞ্চলিক বিকেএসপি আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। বাছাইয়ে স্বচ্ছতা রাখতে এবং স্বজনপ্রীতি ঠেকাতে সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে তিনি নিজেই মাঠ পর্যায়ে তদারকি করবেন। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক মেডিকেল টিম থাকবে।

অতীতে পরিকল্পনাহীন খরচ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কথা স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে। মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এখন একসঙ্গে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, আমি মন্ত্রী নই, একজন খেলোয়াড় হিসেবে এই প্রতিভা বাছাই তদারকি করব।