১৮ ঘণ্টা পর সারা দেশের সাথে সিলেটের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

৫১

হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার মনতলা রেলস্টেশনের কাছে সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ১৮ ঘন্টা পর অবশেষে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার ও রেল পথ সংস্কারের পর সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

মনতলা স্টেশন মাস্টার আতাউর রহমান খাদেম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

জানা যায়, জ্বালানি তেলভর্তি চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী একটি মালবাহি ট্রেন বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মনতলা রেল স্টেশন অতিক্রমকালে ৫ বগি লাইনচ্যুত হয়।

 

এরমধ্যে ৪টি বগি লাইনের পাশে উল্টে পড়ে যায় এবং একটি বগি পাশের ডুবার পানিতে পড়ে। আর এতে করে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে।

 

পরে বিষয়টি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হলে মধ্যরাতে আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারি ট্রেন এসে ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।

 

এদিকে, দূর্ঘটনার পরপরই পড়ে যাওয়া তেল সংগ্রহ করতে হিড়িক পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে। যে যেভাবে পারে তেল সংগ্রহ করা শুরু করে। একপর্যায়ে বিষয়টি বেগতিক দেখে তেল লুটের হিড়িকরোধে ঘটনাস্থলে যায় বিজিবি, পুলিশ ও সেনাবাহিনী।

 

হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সৈয়দ ইশতিয়াক মোরশেদ জানান- বিজিবির উদ্ধারকারী দল নিজস্ব উদ্যোগে ড্রাম ও জারিকেন সংগ্রহ করে প্রায় এক হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করে সংরক্ষণ করেছে।

 

এ উদ্যোগের ফলে সরকারি সম্পদের অপচয় রোধের পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থলে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখাও সম্ভব হয়েছে।

 

রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান জানান- দুর্ঘটনার পর রেল যোগাযোগ দ্রুত স্বাভাবিক করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে। একটি বগি সেতুর নিচে পানিতে পড়ে যাওয়ায় উদ্ধার কাজে বিলম্বিত হয়।

 

তিনি বলেন- দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

কামরুজ্জামান আরো বলেন- লাইনচ্যুত হওয়া বগিগুলোর মধ্যে ডিজেল ছিল। প্রতিটা বগিতে প্রায় ৩৯ হাজার লিটার তেল ছিল। দুইটা বগি থেকে হয়তো ৩০% এর মতো মিসিং হয়েছে অন্যগুলো থেকে ৫ থেকে ১০% মিসিং হয়েছে।

 

অপরদিকে- সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় ওই রোডের যাত্রীদের। বিভিন্ন স্টেশনে অপেক্ষমান যাত্রীদের অনেককেই টিকিট ফেরত দিয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

 

স্টেশনে স্টেশনে আটকা পড়ে ট্রেনগুলো। ফলে সিডিউলে দেখা দেয় বিপর্যয়। নোয়াপাড়া রেলস্টেশনের যাত্রী সালাউদ্দিন বলেন, তিনি ঢাকা যাওয়ার জন্য আগেই টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন।