১ জানুয়ারি থেকে সিবিএমএস ব্যবহার বাধ্যতামূলক

৫১

বন্ড ব্যবস্থাপনাকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় ও স্বচ্ছ করতে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ‘কাস্টমস বন্ড ব্যবস্থাপনা সিস্টেম’ (সিবিএমএস) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) সংস্থাটি থেকে এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

পরিপত্রে এনবিআর জানায়, দেশের বন্ড ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে গত ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ‘কাস্টমস বন্ড ব্যবস্থাপনা সিস্টেম’ (সিবিএমএস) নামক একটি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার চালু করেছে। বর্তমানে এনবিআরের অধীনস্থ তিনটি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের মাধ্যমে এই সফটয়্যারের ২৪টি মডিউল ব্যবহার করে বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইনে সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

বন্ডেড ওয়‍্যারহাউস লাইসেন্সধারী রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল আমদানির জন্য শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তরের অনুমোদিত সহগ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট থেকে ইউটিলাইজেশন পারমিশন (ইউপি) গ্রহণ করে থাকে। সিবিএমএস-এর ইউপি মডিউল চালু হলেও এখনো বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ইউপি নিচ্ছে, মাত্র অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান অনলাইনে এই সেবা নিচ্ছে। সফটওয়্যারটির ব্যবহার বাধ্যতামূলক না হওয়ায় গত ১১ মাসেও এর ব্যবহার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।

সিবিএমএস সিস্টেমটি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে সিস্টেমটিতে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও সংশোধন করে আরো ব্যবহারবান্ধব করা হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে দ্রুততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুকূলে ইউপি ইস্যুকরণ সংক্রান্ত সব সেবা গ্রহণ ও প্রদানের ক্ষেত্রে সিবিএমএস সফটওয়্যারের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলো। ১ জানুয়ারি থেকে বন্ডেড প্রতিষ্ঠানসমূহকে ইউপি ইস্যু সংক্রান্ত কোনো সেবা সিবিএমএস সফটওয়্যারের মাধ্যম ব্যতীত অন্য কোনো মাধ্যমে প্রদান করা হবে না মর্মে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি পরিপত্র জারি করেছে।

সিবিএমএস বাধ্যতামূলক করার সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে—

এতে সেবা প্রদানে দ্রুততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে;

সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে;

কাঁচামালের ইনপুট-আউটপুট হিসাব স্বয়ংক্রিয় হওয়ায় অনিয়ম কমবে;

ম্যানুয়াল কাগজপত্রের ঝামেলা দূর হবে; এবং

বন্ড সংক্রান্ত জটিলতা ও বিবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।