শুভেন্দু অধিকারীর সহকারীকে গুলি করে হত্যা, মধ্যমগ্রামে তোলপাড়

৪২

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। গাড়িতেই মৃত্যু হয় চন্দ্রনাথের। গুরুতর আহত হন গাড়িচালক ও আরও এক সহযোগী।

জানা গেছে, বুধবার রাতে নিজের গাড়িতে ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ। একটি নিশান মাইক্রো গাড়ি দীর্ঘক্ষণ ধরে তাকে অনুসরণ করছিল। দোহারিয়ায় বিমানবন্দরের কাছে ওই গাড়িটি চন্দ্রনাথের গাড়ির পথ আটকে দেয়। পেছনে ছিল তিনটি মোটরবাইক। গাড়ি থামতেই বাইক থেকে নেমে দুর্বৃত্তরা পরপর পাঁচ রাউন্ড গুলি চালায়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গাড়িতেই লুটিয়ে পড়েন চন্দ্রনাথ। এরপর চার চাকার গাড়িটি ফেলেই বাইকে পালায় তারা।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চালক প্রায় এক কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে মধ্যমগ্রামের বিভা সিটি মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে চিকিৎসকরা চন্দ্রনাথকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারসহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা। হাজির হন ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা ও জেলা পুলিশ সুপার পুষ্পা। ঘটনাস্থল ও গাড়ি থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে ফরেনসিক দল। বৃহস্পতিবার বারাসাত জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হবে।

ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা জানান, ব্যবহৃত নিশান মাইক্রো গাড়িটি বাজেয়াপ্ত হয়েছে। গাড়িতে শিলিগুড়ির ভুয়া নম্বর প্লেট ছিল। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোল উদ্ধার হয়েছে। তদন্ত চলছে।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দুদিন ধরে নজরদারি চালিয়ে ভুয়া নম্বর প্লেটের গাড়ি নিয়ে এই খুন হয়েছে। আমরা ব্যবস্থা নেব। দু-তিন দিনের মধ্যেই বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব নেবে। অভয়ার মতো যাতে বিচারহীন না থাকে, সেই ব্যবস্থা করব।”

বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ দাবি করেন, এটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি বলেন, “তৃণমূল যে হিংসার পরিবেশ তৈরি করেছে, তারই পরিণতি চন্দ্রনাথের খুন।”