কারাগারে বাবা-দাদি-ফুফু, সঙ্গে গেল দুই শিশুও

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ আয়শা ছিদ্দিকা মুক্তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় স্বামী, শাশুড়ি ও ননদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তাদের সঙ্গে কারাগারে যেতে হয়েছে মুক্তার আড়াই বছরের ছেলে ও সাত মাস বয়সী মেয়েকেও।

বুধবার (১ জুলাই) চট্টগ্রাম জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল হান্নানের আদালতে তিন আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন— মুক্তার স্বামী আরিফুল ইসলাম জিফাত, শাশুড়ি মোছাম্মৎ মনোয়ারা বেগম ও ননদ মোছা. নাদিয়া আক্তার (৩২)। তাদের সঙ্গেই কারাগারে গেছে মুক্তার দুই সন্তান— আড়াই বছরের আরাফ ও সাত মাসের জাইফা ইসলাম।

আদালত থেকে শিশু দুটিকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফোরকান মোহাম্মদ বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় জামিন চাওয়া হয়েছিল। কারণ ভিকটিমের দুই নাবালক সন্তান আসামিদের হেফাজতে। তাদের দেখাশোনার কেউ নেই। তবে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চন্দনাইশ পৌরসভার হাজিপাড়ায় নিজ কক্ষ থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মুক্তার মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় তার বাবা মো. মনির আহমদ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। তদন্ত করে পিবিআই।

গত ৬ মে পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, মুক্তাকে সরাসরি হত্যা করা হয়নি। তবে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অব্যাহত মানসিক-শারীরিক নির্যাতন ও যৌতুকের চাপে তিনি আত্মহত্যায় বাধ্য হয়েছেন। এ কারণে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল আরিফুল ইসলাম জিফাতের সঙ্গে মুক্তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ দুই লাখ টাকাসহ প্রায় ১৩ লাখ টাকার মালামাল দেওয়া হয়। অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পরই ব্যবসার জন্য আরও পাঁচ লাখ টাকা ও ঈদে দামি উপহার দাবি করে মুক্তাকে নির্যাতন শুরু করেন জিফাত।