যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরেনিয়াম নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান

৪২

ইরানের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দাবি ছিল, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নিতে হবে। তবে এবার উল্টো কঠোর অবস্থান নিল তেহরান।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি নির্দেশ দিয়েছেন— প্রায় অস্ত্রমানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না। রয়টার্সকে দুটি ইরানি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে দেশ আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই খামেনির নির্দেশে সেই পথ বন্ধ করা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি চললেও দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস তীব্র। ইরানের শান্তি আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ দাবি করেছেন, আমেরিকার প্রকাশ্য ও গোপন তৎপরতা নতুন হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমরা ওটা তাদের কাছে থাকতে দেব না। প্রয়োজন হলে আমরা সেটি ধ্বংস করব।”

অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরানো না হলে যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে তারা মানবে না। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সমর্থনও বন্ধ করতে হবে।

আইএইএ-র তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সময় ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৪০.৯ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। এর কতটা টিকে আছে তা স্পষ্ট নয়।

আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি মার্চে জানান, ওই মজুদের বড় অংশ ইস্পাহান পারমাণবিক কেন্দ্রের টানেল কমপ্লেক্সে আছে। সংস্থার ধারণা, সেখানে ২০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম রয়েছে। আরও কিছু অংশ নাতাঞ্জের পারমাণবিক কমপ্লেক্সে থাকতে পারে বলে মনে করে আইএইএ।