আ.লীগের ‘ফেরা’ নিয়ে আসিফ নজরুল ও মাহফুজ আলমের স্ট্যাটাস

২২

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘ফেরা’ নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

বুধবার (২০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আসিফ নজরুল লেখেন, ‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি। তারা ছিলই। ব্যাক করেছে তাদের দম্ভ, মিথ্যাচার আর মানুষকে বিভ্রান্ত করার দুঃসাহস।’

এর আগে দীর্ঘ এক পোস্টে মাহফুজ আলম লেখেন, ‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেছে, দেখো নাই? লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে। কীভাবে ফিরল, সে গল্পই বলব আজ।’

তিনি আরও লেখেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন ২৪–কে ৭১–এর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল স্বাধীনতার বিরুদ্ধের শক্তি। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন থেকে ডানপন্থীদের উত্থানের জন্য অন্তরীণ সরকারের লোকজন কাজ করা শুরু করেছে। আইনের শাসনের বদলে মবের শাসনে আনন্দ পেয়েছিল গত ১৭ বছরের মজলুমগণ।’

মাহফুজ আলমের পোস্টে উঠে আসে—মাজারে হামলা, মসজিদ থেকে ভিন্নমতাবলম্বীদের বের করে দেওয়া, হিন্দুদের ওপর নিপীড়নে নীরবতা, সেকুলারদের মধ্যে ভয়, মবস্টারদের হিরো বানানো, উগ্রবাদীদের সেফ স্পেইস দেওয়া, ন্যূনতম সংস্কার ও ঐকমত্য কমিশনের নামে জনগণকে হতাশ করা, বিএনপি ঠেকাতে জামাতকে কাছে টানা, ছাত্রদের বিপ্লবী সংগঠনের বদলে ক্লাব আর মবে রূপ নেওয়া, মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা—এসব ঘটনার মধ্য দিয়েই লীগ ‘ব্যাক করেছে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও লেখেন, অন্তরীণ সরকার পলিটিক্যাল থেকে আমলাতান্ত্রিক হলে এবং আমলানির্ভর কিচেন ক্যাবিনেট থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু হলে লীগ ফিরেছে। তার ভাষ্য, কিচেন ক্যাবিনেটের অধিকাংশ লোকই ছিল জামায়াত-বিএনপি বা লীগের ‘ছুপা দালাল’, যাদের কাছে জুলাই মানে ছিল নিজেদের পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থরক্ষা।

ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রের বদলে সংঘতন্ত্র জয়ী হওয়া, নতুন মিডিয়া অনুমোদনে বাধা, জুলাই ঘোষণাপত্র আমলাতন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়া, বাম-শাহবাগী পেটানোয় আনন্দ, রিগ্রেসিভ কালচার দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদ মোকাবিলার চেষ্টা, নির্বাচনি বাটোয়ারার মাধ্যমে সংস্কার ও বিচার কম্প্রোমাইজ করা, কমিশন-ট্রাইব্যুনালকে আদর্শভিত্তিক বার্গেইনিং টুল বানানো এবং জুলাইয়ে পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে ‘জিরো কন্ট্রিবিউশন গুপ্তদের’ ক্ষমতায়িত করার কথাও উল্লেখ করেন মাহফুজ আলম।

পোস্টের শেষে তিনি জানান, এই তালিকা আরও বাড়বে।