তুলা চাষে ২০ কোটি টাকার প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার

২৩

দেশে তুলার উৎপাদন বাড়াতে ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তা দিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২০ কোটি টাকা প্রণোদনা বরাদ্দ করেছে সরকার।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের (সিডিবি) মৃত্তিকা উর্বরতা ও পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ড. মো. গাজী গোলাম মর্তুজা বলেন, টানা তৃতীয়বারের মতো এই প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় ২৬ জেলার প্রায় ২৫ হাজার প্রান্তিক কৃষক এক বিঘা জমিতে সাথি ফসল হিসেবে তুলা চাষের জন্য বীজ, সার ও কীটনাশক পাবেন।

সিডিবির নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন জানান, প্রতি বিঘায় তুলা চাষে খরচ হয় প্রায় ১৫ হাজার টাকা। উৎপাদন হয় ১৫ মণ কাঁচা তুলা, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা। জুনের মাঝামাঝি বীজ বপন শুরু হয়, ডিসেম্বরে ফসল তোলা যায়। প্রতি কেজি তুলা উৎপাদনে সরকারের প্রায় ৪ ডলার আমদানি খরচ সাশ্রয় হয়।

সিডিবির সিনিয়র জিনিং অফিসার মুহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রণোদনার আওতায় প্রত্যেক কৃষক ৮ হাজার টাকা মূল্যের উপকরণ পাবেন। এর মধ্যে থাকবে ৬০০ গ্রাম হাইব্রিড বীজ, ৫০ কেজি করে টিএসপি ও এমওপি সার, ২ কেজি বোরন সার, ৪৫০ মিলিলিটার ছত্রাকনাশক এবং ১৫০ মিলিলিটার বৃদ্ধিকারক।

জোনভিত্তিক বরাদ্দে যশোরে ৩ হাজার, চুয়াডাঙ্গায় সাড়ে ৫ হাজার, ঝিনাইদহে ৩ হাজার ২০০, কুষ্টিয়ায় ৬ হাজার ২০০, রাজশাহীতে ২ হাজার, বগুড়ায় ১ হাজার ২০০, ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০০, রংপুরে ৬৮০, ময়মনসিংহে ১ হাজার ২০০ এবং ঢাকা, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে ৩৮০ জন করে কৃষক এ সুবিধা পাবেন।

কৃষি মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে এই তহবিল দেবে। আগামী মাস থেকে প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তার সমন্বয়ে উপকরণ বিতরণ শুরু হবে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ হাজার ৩৭৫ জন কৃষককে ৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২১ হাজার ১০০ জনকে ১৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল।

সিডিবির বিজ্ঞানীরা জানান, আমদানি নির্ভরতা কমাতে জেনেটিক্যালি মডিফায়েড (জিএম) তুলার জাত প্রবর্তন যুগান্তকারী পদক্ষেপ। দেশের ৩২টিরও বেশি জেলার উঁচু ও পাহাড়ি ভূমি তুলা চাষের উপযোগী।

বর্তমানে প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে বছরে ২ লাখ ১ হাজার ২৭২ বেল তুলা উৎপাদন হয়। তবে এটি জাতীয় চাহিদার মাত্র ৩-৪ শতাংশ। দেশের টেক্সটাইল শিল্পে বছরে ৭৫-৮০ লাখ বেল তুলা লাগে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭৩ লাখ বেল কাঁচা তুলা আমদানিতে সরকারের খরচ হয়েছিল ৪৫ হাজার কোটি টাকা।