লুকিয়ে রাখা অস্ত্র বের করছে ইরান, পাল্টা প্রস্তুতিতে যুক্তরাষ্ট্র

২৭

মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ৩৮ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ইরান যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিল, তেহরান এখন তা থেকে সরে আসছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ শুক্রবার জানিয়েছে, গত যুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় বিধ্বস্ত স্থাপনার নিচে চাপা পড়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারে নেমেছে ইরানি বাহিনী। পাশাপাশি ভূগর্ভে মজুত রাখা অস্ত্রভাণ্ডারও বের করে আনা হচ্ছে।

ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন যেকোনো সময় নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে— এই ধারণা থেকেই ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য দ্রুত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত গুছিয়ে নিচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও ইরানে আবার হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধে যাওয়া লাগতে পারে। এ নিয়ে কী আলোচনা হচ্ছে, সেটা আমি আর খুব অল্প কয়েকজন ছাড়া কেউ জানে না।” জার্মানির পর ইতালি ও স্পেন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কথাও উঠে এসেছে তার বক্তব্যে, যা যুদ্ধপ্রস্তুতির অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন রণতরীগুলোতে জ্বালানি, রসদ ও গোলাবারুদ নতুন করে তোলা হচ্ছে। সেন্টকমের প্রকাশ করা ছবিতে দেখা গেছে, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক-এ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম লোড করা হচ্ছে। জাহাজটি এখন ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আনা একটি প্রস্তাব ভোটে হেরে গেছে। প্রস্তাবে ইরান যুদ্ধ থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু তা ৪৭-৫০ ভোটে বাতিল হয়। অন্যদিকে আজ শুক্রবার ইরানে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর থাকা একটি আইনি সময়সীমাও শেষ হচ্ছে।

কূটনৈতিক মহলের ধারণা, ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফরই এখন যুদ্ধ হবে কি না তার অনেকটা নিয়ন্ত্রক। মে মাসের মাঝামাঝি বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা। ইরানের সঙ্গে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠতার কারণে হোয়াইট হাউজ এই সফরকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আগেরবার যুদ্ধের জন্য সফর পিছিয়েছিল, এবার আর সেটা চাইছে না ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে পুরো অঞ্চল এখন ওয়াশিংটন-তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায়।