‘যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দেখুন এক পিস টমেটোর দাম কতো’

৩৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনা অতিমারির কারণে বিশ্বব্যাপী মন্দা দেখা না দেয়। এরপর আবার ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। এটিকে ঘিরে স্যাংশন, পাল্টা স্যাংশন। প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বাড়ল, পরিবহন খরচ বাড়ল। আমরা তো তা-ও খেয়ে-পরে আছি। আপনারা যান না যুক্তরাষ্ট্রে, ইংল্যান্ডসহ আরও বিভিন্ন জায়গায় যান। গিয়ে দেখুন সেখানকার মানুষের কি অবস্থা। ওই একটা টমেটো কয় শ টাকা দিয়ে কিনতে হয় বা একটা রুটি কতো টাকা দিয়ে কিনতে হয় গিয়ে দেখুন। সেখানে একেবারে নির্দিষ্ট করা আছে বেশি কিনতে পারবেন না। সেখানে যে কি অবস্থা, সেটা আমরা জানি।

শুক্রবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলন তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফরের বিস্তারিত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওয়াশিংটনে তো কিছু বাজার করে রান্না করে খেয়ে আসছি। সেখানে এই এতটুকু এক পিস মাছ কিনতে গিয়ে বা দুই টুকরা মুরগির মাংস কিনতে যে কত টাকা খরচ হয়, সেটা তো আমরা নিজেরা দেখেই এসেছি। তবে আমরা কিন্তু মানুষের পাশে আছি যাতে তাদের কষ্ট না হয়।

তিনি বলেন, একজন বলে দিলেন পাঙাশ মাছ খেতে পারেন না। আমি যদি জিজ্ঞাস করি, সেই ২০০৯ সালে আমরা সরকার গঠনের আগে কত পাঙাশ মাছ খেতেন? বা আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে মাছের ওপর গবেষণা শুরু করি, ’৯৬ সালের আগে কত পাঙাশ মাছ খেতেন? মানুষ যেখানে আগে নুন-ভাত পেত না। আমার খুশি লাগে যে, এখন অন্তত তারা পাঙাশ মাছের কথা চিন্তা করে। কারণ, পাঙাশ মাছ শুধু বরিশালে পাওয়া যেত, আর যমুনা নদীতে পাওয়া যেত। সারাদেশে কিন্তু পাঙাশ মাছ পাওয়া যেত না। গবেষণার মাধ্যমে কিন্তু এখন পাঙাশ চাষ হয় এবং সারাদেশেই পাওয়া যায়।

আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, যারা ঘরে বসে বলেন গরিবদের জন্য কিছু করা হয়নি। তাহলে যখন দরিদ্রের হার ৪১ শতাংশের বেশি ছিল, তারা তো তখন অনেকেই উচ্চপদে ছিলেন। তারা তখন কী করেছিলেন? সেই জবাবটা আগে তারা দিক যে, তারা কতটুকু কি করে গেছেন দেশের মানুষের জন্য। দরিদ্রের জন্য করেছি তো আমরা সরকারে আসার পর। যে কারণে আজকে দরিদ্রের হার ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

এর আগে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছান শেখ হাসিনা। অধিবেশনে অংশ নেওয়ার ফাঁকে অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। এ ছাড়া ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এবং বাংলাদেশ দূতাবাস পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর প্রধানমন্ত্রী ৩০ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন থেকে লন্ডনে যান। সেখান থেকে দেশে ফেরার আগে শেখ হাসিনা বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবর্ধনায় যোগ দেন। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ১৬ দিনের সরকারি সফর শেষ করে বুধবার (৪ অক্টোবর) দেশে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।