২৮ জুন থেকে চালু হচ্ছে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম চালু হচ্ছে। প্রায় দেড় বছর ধরে সীমিত থাকা ভিসা সেবা পুনরায় চালু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ভ্রমণপিপাসু, ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট সংখ্যক আবেদন গ্রহণের মাধ্যমে ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম শুরু হবে। পরে ধাপে ধাপে তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। এর ফলে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র, ধর্মীয় স্থান এবং আত্মীয়স্বজনের কাছে ভ্রমণের সুযোগ আবারও সহজ হবে।

গত বছরের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম কার্যত স্থগিত হয়ে যায়। তবে মেডিকেল, শিক্ষার্থী ও কিছু বিশেষ ক্যাটাগরির ভিসা সীমিত আকারে চালু ছিল। ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকায় চিকিৎসা ছাড়া সাধারণ ভ্রমণকারীদের ভারত সফরে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, গত কয়েক মাস ধরে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা চলছিল। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও এর আগে জানিয়েছিলেন, ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসাসহ অন্যান্য ভিসা দ্রুত চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

বাংলাদেশিদের কাছে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম জনপ্রিয় বিদেশ ভ্রমণ গন্তব্য। প্রতিবছর লাখো মানুষ চিকিৎসা, কেনাকাটা, অবকাশযাপন, ধর্মীয় পর্যটন এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ভারতে যান। বিশেষ করে কলকাতা, দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, দিল্লি, আগ্রা ও জয়পুর বাংলাদেশি পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর খবরের পর থেকেই বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সিতে ভারত সফরসংক্রান্ত অনুসন্ধান বেড়েছে। অনেকেই ঈদ-পরবর্তী ছুটি এবং বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু করেছেন।

ভিসা আবেদনকারীদের নির্ধারিত অনলাইন পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে। বৈধ পাসপোর্ট, ছবি, ভ্রমণ পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র জমা দিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। সংশ্লিষ্টরা আবেদনকারীদের অফিসিয়াল নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের পর্যটন, পরিবহন ও সেবাখাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।