মুন্সিগঞ্জে টাকার ফাঁদে ডেকে নিয়ে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ-হত্যা, নদীতে ভাসল লাশ

৪৩
মুন্সিগঞ্জে টাকার ফাঁদে ডেকে নিয়ে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ-হত্যা, নদীতে ভাসল লাশ

লিংকন আহমেদ, মুন্সিগঞ্জঃ মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ১৯ বছর বয়সী তরুণী হালিমা আক্তারকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িতরা হত্যার প্রায় ১৫ দিন আগেই পরিকল্পনা করেছিল বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার সন্ধ্যায় মুন্সিগঞ্জে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহান এ তথ্য জানান।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গত ২৬ মে সন্ধ্যায় হালিমা আক্তারকে গজারিয়ার বড় ভাটেরচর এলাকার নদীপাড়ের একটি নির্জন স্থানে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে নদী পার করে একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নির্যাতনের পর গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। দুই দিন পর, গত ২৯ মে সকালে গজারিয়ার ফুলদী নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে পিবিআই।

এ ঘটনায় নিহতের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বৃষ্টি বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), রাসেল মিয়া (৪৪) এবং আল আমিন প্রধান (৫০)। তারা সবাই বড় ভাটেরচর এলাকার বাসিন্দা।

পিবিআই জানায়, প্রধান অভিযুক্ত আবু কালামের কাছে হালিমার ২৫ হাজার টাকা এবং রাসেল মিয়ার কাছে ১০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। এছাড়া অপর এক অভিযুক্তের সঙ্গে তার পূর্বপরিচিত সম্পর্ক ছিল। বিভিন্ন সময়ে টাকা ধার নেওয়া ও তা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে একটি বৈঠকে অভিযুক্তরা হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে ঘটনাস্থলে ডেকে নেওয়া হয় এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী অপরাধ সংঘটিত হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার চার আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।