যাত্রীসেবার মান এখনো উন্নত হয়নি: যাত্রীসেবা কল্যাণ সমিতি

৭৫
যাত্রী অধিকার রক্ষায় ৩৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করল ‘বাংলাদেশ যাত্রীসেবা কল্যাণ সমিতি’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | যাত্রী অধিকার রক্ষা এবং দেশের পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ যাত্রীসেবা কল্যাণ সমিতি’র ৩৯ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। অদ্য শনিবার (৯ মে) সকালে সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন ও আলোচনা সভায় এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সংগঠনের নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুল আজিজ চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই কেন্দ্রীয় কমিটি আগামীতে দেশের যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও অধিকার নিশ্চিতে দেশব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়নে যাতায়াত ব্যবস্থা অনস্বীকার্য ভূমিকা রাখলেও সেই তুলনায় যাত্রীসেবার মান এখনো উন্নত হয়নি। বর্তমানে পরিবহন খাতকে একটি ‘চলমান শিল্প’ হিসেবে উল্লেখ করে বক্তারা মালিক-চালক-শ্রমিক ও যাত্রীদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে, পরিবহন সংক্রান্ত সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যাত্রীদের প্রকৃত প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে যাত্রী অধিকার রক্ষায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

  • গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি করা।

  • সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম (অ্যাপ/হটলাইন) চালুর মাধ্যমে দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি।

  • চালক ও হেলপারদের জন্য আচরণ ও নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

  • নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য বিশেষ যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করা।

  • প্রতিটি বাসস্ট্যান্ড ও টার্মিনালে যাত্রী সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা।

  • ফিটনেসবিহীন যানবাহন রাস্তা থেকে অপসারণ এবং রেল ক্রসিংয়ে উন্নত সিগন্যাল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল আজিজ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান এবং প্রধান উপদেষ্টা শাহ আশরাফ উদ্দিন আহমেদ শামীমসহ আরও অনেকে। এছাড়াও সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য ও আইটি এক্সপার্ট ফোরকান আহমেদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে যে, সরকার ও পরিবহন মালিকদের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করে তারা বাংলাদেশের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।