চার জাহাজে আসছে ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল

২৯

চার জাহাজে করে আরও ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল আসছে দেশে। এর মধ্যে তিনটি জাহাজ আজ শুক্রবারই (১৭ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া, আগামী রোববার আসবে আরও একটি। এ পরিমাণ জ্বালানি দিয়ে প্রায় ১২ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে এই তথ্য।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ এমটি ওকট্রি, এমটি কেপ বনি ও এমটি লিয়ান সং হু— এই তিনটি ট্যাংকার বন্দরে ভিড়বে। আর এমটি গোল্ডেন হরাইজন নামের আরেকটি ট্যাংকার রোববারে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

চারটি ট্যাংকারের স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী তিন দিনের মধ্যেই সবকয়টি ট্যাংকার বন্দরে পৌঁছাবে।

এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুত ছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার টন। নতুন ৪টি ট্যাংকারের ডিজেল খালাস হলে মজুত বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার টনে। এই মজুত দিয়ে প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

চলতি মাসে ডিজেল নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সরবরাহ বাড়ায় তা কাটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেলনির্ভর। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। এর বড় অংশ সরাসরি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। আর বছরে ৭ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টন পাওয়া যায় অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে।

জ্বালানি তেলের মধ্যে বহুমুখী খাতে ডিজেলের ব্যবহার হয়। সড়ক পরিবহনের বড় অংশ যেমন বাস, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান ও পণ্যবাহী যানবাহন মূলত ডিজেলচালিত। কৃষিতে সেচযন্ত্র চালানো, নদীপথে নৌযান পরিচালনা এবং অনেক শিল্পকারখানার জেনারেটর চালাতেও ডিজেল ব্যবহৃত হয়।

দেশে ব্যবহৃত ডিজেলের প্রায় ২৪ শতাংশ যায় কৃষি খাতে। বিদ্যুৎ ঘাটতির সময় কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রেও এ জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। ফলে, পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ— সব খাতেই ডিজেলের ওপর নির্ভরতা ব্যাপক।