তপুকে ছাড়াই আসিয়ান কাপের ২৩ জনের দল ঘোষণা

প্রথমবারের মতো ফিফা আসিয়ান কাপ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে ইতিহাস গড়ার মঞ্চে দলের সঙ্গে থাকছেন না অভিজ্ঞ সেন্টারব্যাক তপু বর্মণ। চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে স্কোয়াডের বাইরে রেখেছেন কোচ টমাস ডুলি। একই সঙ্গে নতুন কয়েকজন প্রবাসী ফুটবলারকে দলে রেখেছেন এই আমেরিকান কোচ। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সংমিশ্রণ দেখে মনে হচ্ছে ভবিষ্যতের বাংলাদেশও গড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন ডুলি।

শুক্রবার দিবাগত রাতে আসিয়ান কাপের জন্য ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ইন্দোনেশিয়া ও হংকংয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত হবে টুর্নামেন্টটির প্রথম আসর। বাংলাদেশ খেলবে ইন্দোনেশিয়ায়।

তপুকে না রাখার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ডুলি, ‘তপু চোট থেকে সেরে ওঠেনি। সে এখন পর্যন্ত দলের সঙ্গে এক সেশনও অনুশীলন করেনি। আরও দুই সপ্তাহ পারবে না। আমাদের লক্ষ্য, তাকে সাফের জন্য ফিট করে তোলা।’

আসিয়ান কাপের জন্য তাড়াহুড়ো করে তপুকে খেলানোর চেয়ে সামনে সাফের কথা মাথায় রেখেছেন কোচ। তাঁর অনুপস্থিতিতে দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরেছেন সেন্টারব্যাক মঞ্জুরুর রহমান। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অভিষেকের পর এবার আবারও জাতীয় দলের জার্সি পরার অপেক্ষায় তিনি।

এদিকে প্রবাসী ফুটবলারদের মধ্যেও ট্রায়ালে অংশ নেওয়া ইয়াসার তাহমিদ, দেবজিৎ সরকার, সাইফ কেরাওয়ালা, শুকি ইতোফুসা, জিদান ইউসুফ ও ইউসুফ আহমেদের মধ্যে ইয়াসার ও দেবজিৎ আগেই বাদ পড়েছিলেন। চূড়ান্ত দলে জায়গা পেয়েছেন শুকি ইতোফুসা ও জিদান ইউসুফ। তাছাড়া ইংল্যান্ডের ফুলহ্যামের তরুণ ফুটবলার ফারহান আলীও আছেন ২৩ জনের দলে। তিনি এই মূহুর্তে বোরহ্যাম উড এফসিতে ধারে খেলছেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার গোলরক্ষক সাইফ কেরাওয়ালার আর জায়গা হয়নি। ক্যাম্পে ট্রায়াল দেওয়ার পরও কিছু ঘাটতির কারণে এবার তাঁকে নেওয়া হয়নি। তবে ভবিষ্যতে আবারও জাতীয় দলে ডাকার দরজা খোলা রেখেছেন ডুলি।

ঢাকায় দলের সঙ্গে অনুশীলন না করেও স্কোয়াডে আছেন হামজা চৌধুরী ও শমিত সোম। তাঁরা ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। প্রবাসী ফুটবলারদের এই উপস্থিতিই আসিয়ান কাপের আগে বাংলাদেশের স্কোয়াডে অন্যতম বড় আলোচনার বিষয়।

আসিয়ান কাপের প্রথম বিভাগে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের অভিযান। ২৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে ডুলির দল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ১ অক্টোবর, প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া। তিনটি ম্যাচই হবে জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে।

প্রথম বিভাগে দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়নরা ফাইনালে খেলবে। আর গ্রুপের রানার্সআপদের জন্য থাকবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। তাই বাংলাদেশের সামনে শুধু তিনটি গ্রুপ ম্যাচ নয়, টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত যাওয়ারও সুযোগ থাকছে।

বাংলাদেশের স্কোয়াড:

গোলকিপার: মিতুল মারমা, মেহেদী হাসান শ্রাবণ ও সুজন হোসেন।

ডিফেন্ডার: তারিক কাজী, শাকিল আহাদ, সাদ উদ্দিন, জায়ান আহমেদ, জিদান ইউসুফ, মঞ্জুরুর রহমান ও রহমত মিয়া।

মিডফিল্ডার: জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানা, মোহাম্মদ সোহেল রানা, মোহাম্মদ হৃদয়, হামজা চৌধুরী, শমিত সোম ও শেখ মোরছালিন।

ফরোয়ার্ড: শাহরিয়ার ইমন, ফাহামিদুল ইসলাম, শুকি ইতোফুসা, রাকিব হোসেন, ফারহান আলী ও মিনহাজুল করিম।