খামেনির শেষ বিদায়ে প্রতিশোধের স্লোগান, তেহরানে লাখো মানুষের ঢল

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান শোক ও প্রতিশোধের আহ্বানে মুখর হয়ে উঠেছে। তেহরানের ইমামে খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে লাখো মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন।

শনিবার (৪ জুলাই) আয়োজিত অনুষ্ঠানে খামেনি এবং মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহত তার পরিবারের সদস্যদের কফিন জনসমক্ষে আনা হয়। কাচে ঘেরা বিশেষ কফিনে রাখা ছিল খামেনির মরদেহ। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ভোর থেকেই গ্র্যান্ড মোসাল্লা ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। অনুষ্ঠান শুরুর আগেই পুরো প্রাঙ্গণ শোকাহত মানুষের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে যায়। অনেকে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান।

শ্রদ্ধা জানাতে আসা ৪০ বছর বয়সী আরশ রাহিমি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই তার রক্তের প্রতিশোধ নেব। আমাদের নেতা যেমন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের রক্তের শত্রুতা রয়েছে।’

হামাদান থেকে আসা হামিদ তিমোরি বলেন, ‘আমার বাবা মারা যাওয়ার সময়ও এতটা কাঁদিনি, যতটা কেঁদেছি সর্বোচ্চ নেতা শহিদ হওয়ার পর।’

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বহু মানুষ লাল পতাকা বহন করেন, যা ইরানে প্রতিশোধের প্রতীক। এ সময় ‘আমেরিকার মৃত্যু’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগানও ওঠে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। চলমান সংঘাতের কারণে দাফন স্থগিত থাকার পর যুদ্ধবিরতির সুযোগে প্রায় চার মাস পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা ও দাফন হচ্ছে।