২০২৬ বিশ্বকাপে বড় বদল : ম্যাচ থামবে চারবার, কঠোর সময়-শৃঙ্খলা

২৯

২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে ফুটবলে চারটি বড় নিয়ম বদল আনছে ফিফা। হলুদ-লাল কার্ড, ভিএআর বা ইনজুরি টাইমের মতো অতীতের বড় পরিবর্তনের ধারায় এবারও ম্যাচ পরিচালনায় আসছে নতুন মোড়। বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন নিয়মগুলো খেলার গতি, কৌশল ও সম্প্রচারে বড় প্রভাব ফেলবে।

১. বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন বিরতি

এবার থেকে প্রতি ম্যাচেই দুই অর্ধের মাঝামাঝি ৩ মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক দেবেন রেফারি। গরম-ঠান্ডা বা ছাদঢাকা স্টেডিয়াম—সবখানেই নিয়ম এক। ফিফার যুক্তি, সব দলের জন্য সমান পরিস্থিতি নিশ্চিত করা। সমালোচকরা বলছেন, এতে ম্যাচ কার্যত চার ভাগে ভাগ হবে, সম্প্রচারকারীরা বাড়তি বিজ্ঞাপনের সুযোগ পাবে।

২. ভিএআরের ক্ষমতা বাড়ছে

এতদিন গোল, পেনাল্টি, সরাসরি লাল কার্ড ও ভুল পরিচয়ে ভিএআর ব্যবহার হতো। এখন দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের ঘটনাও ভিএআরে যাচাই হবে। স্পষ্ট ভুল কর্নারের সিদ্ধান্তও রিভিউ করা যাবে। তবে দীর্ঘ সময় নিয়ে খেলা থামানো যাবে না, দ্রুত সিদ্ধান্ত দিতে হবে।

৩. সময় নষ্টে কাউন্টডাউন, বদলিতে কড়াকড়ি

গোলকিপারদের ৮ সেকেন্ড নিয়মের সঙ্গে এবার থ্রো-ইন, গোলকিকেও সময় বাঁধা হচ্ছে। রেফারি দৃশ্যমান ৫ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন দেখাবেন। সময় পার হলে বল প্রতিপক্ষ পাবে।

বদলির বোর্ড ওঠার ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ ছাড়তে হবে। দেরি করলে বদলি খেলোয়াড় পরের স্টপেজের আগে নামতে পারবেন না। চোটে মাঠ ছাড়লে অন্তত ১ মিনিট বাইরে থাকা বাধ্যতামূলক।

৪. মুখ ঢাকলেই লাল কার্ড, মাঠ ছাড়লে ম্যাচ হার

প্রতিপক্ষের সঙ্গে বচসার সময় মুখ ঢাকলে সরাসরি লাল কার্ড। সম্প্রতি চ্যাম্পিয়নস লিগে বেনফিকার প্রেস্তিয়ানি ভিনিসিউসের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ ঢাকায় শাস্তি পাওয়ার পর নিয়মটি কঠোর হলো।

রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দল মাঠ ছাড়লে লাল কার্ড দেখানো হবে। কোনো কর্মকর্তা উস্কে দিলেও একই শাস্তি। ফিফা স্পষ্ট করেছে, ম্যাচ পরিত্যাগ করলে সেই দলকে পরাজিত ঘোষণা করা হবে। সম্প্রতি আফ্রিকান নেশন্স কাপের ফাইনালে পেনাল্টির প্রতিবাদে সেনেগাল মাঠ ছাড়ে, পরে ফিরে জিতলেও শিরোপা বাতিল হয়।