তুরাগ বিআরটিএ-তে ফিটনেস বাণিজ্য: টাকা দিলেই ‘আনফিট’ গাড়ি হচ্ছে ‘ফিট’, জিম্মি চালকরা

৪০
"তুরাগ বিআরটিএ-তে ২০ হাজার টাকায় মিলছে আনফিট ট্রাকের সনদ: নেপথ্যে সিন্ডিকেট"

জালাল উদ্দিন বাবু | ঢাকাঃ রাজধানীর তুরাগস্থ বিআরটিএ মেট্রো সার্কেল-৩ অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড় জমেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্য ও ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, নির্ধারিত অংকের উৎকোচ বা ‘ঘুষ’ দিলেই মুহূর্তের মধ্যে লক্কড়-ঝক্কড় ও আনফিট গাড়ি পেয়ে যাচ্ছে ফিটনেস সনদ। আর টাকা না দিলে বৈধ ও ত্রুটিমুক্ত গাড়ি নিয়েও চালকদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।

এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে বিআরটিএ-র ইন্সপেক্টর কায়সার আলমসহ একাধিক কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অংকের টাকার বিনিময়ে ত্রুটিপূর্ণ গাড়িকে ফিটনেস দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

খোকন নামে একজন ভুক্তভোগী চালক অভিযোগ করে বলেন, “এখানে ফিটনেস বাণিজ্যের একটি অলিখিত ‘রেট চার্ট’ রয়েছে। প্রাইভেটকারের জন্য ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা এবং বাস বা ট্রাকের ক্ষেত্রে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দরদাম হয়। টাকা দিলে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সনদ মেলে, না দিলে নানা অজুহাতে আমাদের জিম্মি করে রাখা হয়।”

রাস্তায় লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি চলাচলের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রাফিক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা সড়কে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করি, কিন্তু যখন ভাঙাচোরা কোনো বাস বা ট্রাক আটক করি, তখন দেখি তাদের সব কাগজ ঠিক আছে। বিআরটিএ কীভাবে এই ধরনের মৃত্যুকূপ সদৃশ গাড়িগুলোকে ফিটনেস দেয়, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”

গত ১২ মে বিকেলে বিআরটিএ-র অনিয়মের এক বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠে। সূত্রমতে, ‘ঢাকা মেট্রো ট ১৫-৮১৪৪’ নম্বরের একটি ট্রাকের ফিটনেস সিডিউল পেপারে চারটি বড় ত্রুটি চিহ্নিত করে ফিটনেস আটকে দেন ইন্সপেক্টর কায়সার আলম। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে ২০ হাজার টাকা লেনদেনের বিনিময়ে সেই একই গাড়িকে ফিটনেস সনদ দিয়ে দেওয়া হয়। এই সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।

সাধারণ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কর্মকর্তাদের দেখা পাচ্ছেন না। অথচ দালালের মাধ্যমে টাকা দিলেই কাজ হয়ে যাচ্ছে নিমেষেই। রহিম নামে এক চালক জানান, সরাসরি কথা বলতে চাইলে কর্মকর্তারা কোনো গুরুত্ব দেন না। বাধ্য হয়ে তিনি ৩,০০০ টাকা দালালের হাতে তুলে দেওয়ার পর তার গাড়ির ফিটনেস সম্পন্ন হয়েছে।

বিআরটিএ মেট্রো সার্কেল-৩ এর সাধারণ গ্রাহক ও চালকদের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে এই অফিসটি দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা গণমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্য থামাতে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।