কাপাসিয়ায় ৫ খুনের হোতা স্বামী ফোরকান? হত্যার পর স্বজনদের ফোন করে জানালেন নিজেই!

৩৭
কাপাসিয়ায় ৫ খুনের হোতা স্বামী ফোরকান? হত্যার পর স্বজনদের ফোন করে জানালেন নিজেই!

নিজস্ব প্রতিবেদক, কাপাসিয়া (গাজীপুর) |  গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিহত গৃহবধূর স্বামী ফোরকান মিয়া। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি নিজেই তার আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে খুনের বিষয়টি জানান এবং এরপর থেকেই পলাতক রয়েছেন।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর আলম আজ শনিবার (৯ মে) দুপুরে জানান, “প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় আমরা ফোরকান মিয়াকেই খুনি হিসেবে সন্দেহ করছি। তিনি খুনের পর স্বজনদের বিষয়টি অবহিত করেছেন বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে।” ফোরকান মিয়ার বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরে হলেও তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে রাউৎকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন।

শনিবার সকালে স্থানীয়রা ঘরের ভেতর রক্তাক্ত মরদেহগুলো পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘরের মেঝেতে তিন সন্তানের গলাকাটা মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। বিছানার ওপর পড়ে ছিল শারমিনের ভাই রসুলের নিথর দেহ। আর মা শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা মরদেহ পাওয়া যায় জানালার পাশে। ঘাতকের এমন নিষ্ঠুরতা দেখে এলাকায় শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন জানিয়েছেন, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে অভিযানে নেমেছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।