১২ বছর বাংলাদেশকে সেবা দিয়ে সম্মাননা পাচ্ছেন রুবেল

৩৬

টেস্ট ক্রিকেটে রুবেল হোসেনের একমাত্র ফাইফার নিউ জিল‌্যান্ডের বিপক্ষে হ‌্যামিল্টনে ২০১০ সালে। ওয়ানডেতে তার ক‌্যারিয়ার সেরা বোলিং (২৬/৬, হ‌্যাটট্রিকসহ) নিউ জিল‌্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৩ সালে মিরপুরেই। টি-টোয়েন্টিতেও নিউ জিল‌্যান্ডের বিপক্ষে তার ক‌্যারিয়ার সেরা বোলিং (৪-০-৩১-৩) ।

সদ‌্যই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলা রুবেলের নিউ জিল‌্যান্ড প্রিয় প্রতিপক্ষের একটি। কোনো এক সময় সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘‘নিউ জিল‌্যান্ডের বিপক্ষে আমার যেন কী হয়ে যায়…।’’

রুবেলকে নিয়ে আজকের আলোচনাটা ভিন্নভাবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আজ রুবেলকে সম্মাননা জানাবে। রুবেল যখন সম্মাননা নেবেন তখন মাঠে থাকবে নিউ জিল‌্যান্ড ক্রিকেট দলও! খানিকটা কাকতালীয় বটে।

বাংলাদেশ ও নিউ জিল‌্যান্ডের মধ‌্যকার দ্বিতীয় ওয়ানডের আগের আগে রুবেলকে বিসিবি তার অবদানের জন‌্য সম্মাননা জানাবে। বিসিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জাতীয় দলের হয়ে রুবেল ১২ বছর সেবা দিয়েছেন। বাংলাদেশ ও নিউ জিল্যান্ডের মধ্যে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ শুরুর আগে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৯৩টি উইকেট নেওয়া এই পেসারকে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সম্মাননা দেওয়া হবে।‘’

গত ১৫ এপ্রিল নিজের ফেসবুকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে  ‍রুবেল লিখেছিলেন, ‘‘আমি পেসার রুবেল হোসেন। বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছি ২৭ টেস্ট, ১০৪ ওয়ানডে এবং ২৮টি টোয়েন্টি। জাতীয় দল আমার আবেগ। কিন্তু একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতেই হতো। সেই চিন্তা করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানালাম। তবে ঘরোয়া আসরের ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের ধন্যবাদ। বাকি সময়টাতেও এভাবেই আমাকে আপনাদের পাশে রাখবেন এটা আমার বিশ্বাস। অনেক ভালোবাসা সবার প্রতি।’’

টেস্টে ৩৬, ওয়ানডেতে ১২৯ ও টি-টোয়েন্টিতে ২৮ উইকেট পেয়েছিলেন। ২০২১ সালে নিউ জিল‌্যান্ডের বিপক্ষে ক‌্যারিয়ারের শেষ ম‌্যাচ খেলেছিলেন তিনি।

২০২৪ সালে সবশেষ প্রাইম ব‌্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন। সবশেষ বিপিএলে তার নাম ড্রাফটে থাকলেও তাকে কেউ নেয়নি।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় অর্জনে জড়িয়ে আছে তার নাম। ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশকে নিয়ে যাওয়ার অন্যতম নায়ক তিনি। ৯.৩ ওভারে ৫৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে সেদিন ইংলিশদের ধসিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

ক‌্যারিয়ারের ছোট-বড় নানা অর্জনের ফাঁকে দলকে বড় কিছুর হাতছাড়ার দুঃস্মৃতিতেও মিশে আছে তার নাম। ২০০৯ সালে মুত্তিয়া মুরালিধরণ তার এক ওভারে ২০ রান নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল। ২০১৮ সালে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে ভারতের দিনেশ কার্তিক তার এক ওভারে ২২ রান তুলে বাংলাদেশকে কাঁদিয়েছিল।