তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে প্রজন্ম: বৈশ্বিক উত্তেজনার ক্রমবর্ধমান সঙ্কেত

প্রিয় আলো যুদ্ধ১
৯১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং সামরিক সংঘাতের ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক মহলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা জোরদার করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি পূর্ববর্তী দুটি বিশ্বযুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়ের সঙ্গে তুলনীয়।

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান যুদ্ধ ২০২২ সালে শুরু হলেও, ২০২৫ সালের মে মাসে এটি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সরাসরি সামরিক সহায়তা এবং রাশিয়ার পারমাণবিক হুমকি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। সম্প্রতি, রাশিয়া বেলারুশের মাধ্যমে পশ্চিম ইউরোপের সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে, যা ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

শঙ্কা জাগাচ্ছে চীন-তাইওয়ান সংকট। তাইওয়ান প্রণালীতে চীনের সামরিক মহড়া এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতা ঘোষণার সম্ভাবনা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা তাইওয়ানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সেখানে নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে, যা চীনের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার বারুদ যেকোনো সময় জ্বালিয়ে দিতে পারে গোটা পৃথিবী। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সিরিয়া ও ইয়েমেনে চলমান গৃহযুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া এই অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

বিশ্ব নেতাদের উদ্বেগ ও প্রস্তুতিও বলে দিচ্ছে দ্রুত সময়ে হতে চলেছে অবিশ্বাস্য কিছুই। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেন, “বিশ্ব একটি বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। শান্তি রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।” একই সঙ্গে, বিভিন্ন দেশ তাদের সামরিক বাজেট বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করছে।

বিশ্লেষকদের মতামতও বলছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুধু সময়ের ব্যাপার। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ড. রাহুল সেন সম্প্রতি এক গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ১৯৩০-এর দশকের সঙ্গে অনেকাংশে মিল রয়েছে। যদি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তাহলে একটি বৃহৎ সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।”

বিশ্ব এখন এক সংকটময় সময় অতিক্রম করছে, যেখানে সামান্য ভুল বোঝাবুঝিও বড় ধরনের সংঘাতের কারণ হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রাধিকার দেওয়া, যাতে বিশ্ব তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়াতে পারে।

লেখক-
মোস্তফা কামাল তোহা
তরুণ সাংবাদিক ও লেখক
md.mostafakamaltoha@gmail.com