শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর: মাহদী আমিন

২৮

শ্রমিকদের অধিকার ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

শুক্রবার মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন-আইএলওর ৩৯টি কনভেনশন ও একটি প্রোটোকলে স্বাক্ষর করেছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: সময়মতো বেতন-ভাতা পরিশোধ, নিয়মিত মজুরি পুনর্মূল্যায়ন, নারী-পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিত করা এবং প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা জোরদার করা। প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মনে করতেন শ্রমিকের দু’টি হাতই দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে তিনি অনেক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসী শ্রমবাজার তৈরির মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত দিয়েছেন, যার সুফল দেশ এখনো পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে প্রতিবারই শ্রমজীবী মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শ্রম আইন আধুনিকীকরণ, মজুরি কমিশন গঠন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা এবং শ্রমিক পরিবারের জন্য চিকিৎসা ও শিক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। পোশাক শিল্পের আজকের অবস্থানের পেছনে এসব উদ্যোগের বড় ভূমিকা আছে।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, শ্রমজীবী মানুষই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার প্রধান শক্তি। শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো ও অর্থনীতি গড়ে ওঠে তাদের পরিশ্রমেই। তাই শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা যেকোনো দায়িত্বশীল সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। গণতান্ত্রিক সরকারের লক্ষ্যও তাই। শ্রমবান্ধব নীতি, কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমেই শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।