বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে সুখবর দিলো আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক

Image 243243 1697019518
২৭

বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে সুখবর দিয়েছে আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক। দুটি সংস্থাই বলছে, বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতি কমবে।

বছরের শুরুতে সংস্থা দুটো যে পূর্বাভাস করেছিল, তা বদলে প্রবৃদ্ধির হার বাড়িয়েছে দুটি সংস্থাই। এর মাঝে অবশ্য নানা চড়াই-উৎড়াই গেছে। তবে বছরের প্রথম প্রান্তিকে করা বিশ্লেষণ এবং শেষ প্রান্তিকের বিশ্লেষণের তুলনা করলে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক বার্তাই শোনাচ্ছে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির মোড়ল সংস্থাগুলো।

মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) মরক্কোর মারাকাশে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকনোমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে আইএমএফ জানিয়েছে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ অর্জিত হতে পারে। আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে ৭ শতাংশে উন্নীত হবে।

এর আগে বছরের শুরুতে (৩০ জানুয়ারি) আইএমএফ বলেছিল, ২০২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৫.৫ শতাংশ। এখন সেটা বাড়িয়ে তারা ৬ শতাংশ পূর্বাভাস করছে।

অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক বছরের শুরুতে পূর্বাভাস করেছিল, বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৫.২ শতাংশ। এখন সেটা বাড়িয়ে গত ১ অক্টোবর বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫.৬ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছে।

তবে বড় খবর হলো- দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থাই বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি কমার পূর্বাভাস করেছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে চাপে আছে বাংলাদেশের অর্থনীতি।

আইএমএফ বলছে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসবে। তাদের হিসেবে, গত ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক বলছে, মূল্যস্ফীতি হবে সাড়ে ৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসভিত্তিক বা মাসওয়ারি) দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ। সরকারি হিসেবে, গত অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ২ শতাংশ।

এবারের প্রতিবেদনের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সাধারণত আইএমএফ খুবই কনজারভেটিভ ভাবে হিসেব করে। বরাবরই তাদের করা প্রবৃদ্ধির হার বিশ্বব্যাংকের থেকে কম থাকে। কিন্তু এবারই প্রথম বিশ্বব্যাংকের হিসেবে চেয়েও বেশি প্রবৃদ্ধি হবে বলে বলছে আইএমএফ। বিশ্বব্যাংক যেখানে ৫.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা বলছে, সেখানে আইএমএফ বলছে ৬ শতাংশ।

উল্লেখ্য, এ সময় গ্লোবাল প্রবৃদ্ধির হার ৩ শতাংশেরও কম। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং কোভিডোত্তর বৈশ্বিক নানা পরিস্থিতিতেও ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের ওপরে রাখতে পেরেছে বাংলাদেশ।