৩-০ থেকে ৪-৩, রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে চেলসির বাজিমাত

প্রিমিয়ার লিগে দারুণ শুরু করেছে চেলসি। তবে জয়টা মোটেও সহজ ছিল না। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে তিন গোলের লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্রাইটনের তীব্র চাপ সামলাতে হয়েছে তাদের। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত ম্যাচের ফল ছিল অনিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত সাত গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ব্রাইটনকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে জাবি আলোনসোর দল।

রোববার (৩০ আগষ্ট) ম্যাচে চেলসির হয়ে গোল করেছেন রোমিও লাভিয়া, পেদ্রো নেতো, জোয়াও পেদ্রো ও কোল পামার। ব্রাইটনের হয়ে লক্ষ্যভেদ করেছেন মালিক ইয়ালকুয়ে ও পাসকাল গ্রস। চেলসির জোয়াও পেদ্রোর আত্মঘাতী গোলেও স্কোরলাইন বদলে যায়।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল স্বাগতিকেরা। চতুর্থ মিনিটেই কর্নার থেকে তৈরি হওয়া জটলার মধ্যে সুযোগ পেয়ে চেলসিকে এগিয়ে দেন লাভিয়া।

১০ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো নেতো। মরগান রজার্সের বাড়ানো বল পেয়ে ব্রাইটনের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন পর্তুগিজ এই উইঙ্গার।

৩২ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করে চেলসিকে বড় লিড এনে দেন জোয়াও পেদ্রো। সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে জোরেল হাতোর পাস কাজে লাগিয়ে গোল করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তখন মনে হচ্ছিল, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চেলসির হাতে।

কিন্তু তিন মিনিটের মধ্যেই বদলে যায় দৃশ্যপট। ব্রাইটনের হয়ে একটি গোল শোধ করেন মালিক ইয়ালকুয়ে। চেলসির রক্ষণ ভেদ করে করা তার গোলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ৩-১ ব্যবধানে।

বিরতির পর আরও মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাইটন। ৬৩ মিনিটে সেই চাপের ফলও পেয়ে যায় তারা। পাসকাল গ্রসের পাঠানো বল ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন জোয়াও পেদ্রো। ফলে ৩-০ থেকে মুহূর্তেই ম্যাচের ব্যবধান নেমে আসে ৩-২-এ।

চেলসির ওপর তখন চাপ বাড়ছিল। এমন অবস্থায় ৭৪ মিনিটে দলকে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন কোল পামার। ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের দারুণ শটে বল জালে পাঠান ইংলিশ তারকা। চেলসি আবারও দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

তবে শেষ পর্যন্ত নাটকের ইতি ঘটেনি। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্রাইটনকে ফের লড়াইয়ে নিয়ে আসেন গ্রস। ব্যবধান তখন ৪-৩। কিন্তু সমতাসূচক গোলের জন্য আর সময় পায়নি ব্রাইটন। শেষ বাঁশির সঙ্গে জয় নিশ্চিত হয় চেলসির।

এই ম্যাচ দিয়েই চেলসির জার্সিতে অভিষেক হয়েছে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের। তিন গোল হজম করলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একাধিক আক্রমণ ঠেকিয়ে মোট চারটি সেভ করেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক।

তবে জয়ের রাতেও চেলসির জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে এসেছে ময়েসেস কাইসেদোর চোট। ৬৮ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামার পর চোট পান ইকুয়েডরের এই মিডফিল্ডার। ৮২ মিনিটে চোখের জল নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।

এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম দুই ম্যাচেই পূর্ণ ছয় পয়েন্ট পেল চেলসি। আর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে জাবি আলোনসোর অধীনে এটি দলটির টানা তৃতীয় জয়।