পুলিশ প্রশিক্ষণে অস্ট্রেলিয়ার সহায়তা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল।

বুধবার (৬ মে) বিকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, অনিয়মিত অভিবাসন, রোহিঙ্গা ইস্যু, পুলিশের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

হাইকমিশনার বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিদ্যমান। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়াই প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। বর্তমানে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন, যার মধ্যে প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন।

বৈঠকে আগামী জুন মাসে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর নিয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পুনর্গঠন কার্যক্রম সম্পর্কে হাইকমিশনারকে অবহিত করেন।

মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি একটি ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পেয়েছিলেন। তবে গত আড়াই মাসে পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই লক্ষ্য। হাইকমিশনার আইনশৃঙ্খলার ক্রমবর্ধমান উন্নয়নে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামর্থ্য বৃদ্ধিতে জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। হাইকমিশনার বলেন, বর্তমানে এ ধরনের কর্মসূচি না থাকলেও বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। পারস্পরিক আইনগত সহায়তা সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

অনিয়মিত অভিবাসন রোধে দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করছে জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, নিয়মিত অভিবাসনে সচেতনতা বাড়াতে অস্ট্রেলিয়া কাজ করছে। মন্ত্রী দক্ষ ও শিক্ষিত জনবল পাঠিয়ে নিয়মিত অভিবাসন বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও জীবনমান উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ছাড়া বাংলাদেশের একার পক্ষে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভার বহন সম্ভব নয়। গত ৪ মে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির প্রথম সভার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্যাম্পে মাদক ও অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর। হাইকমিশনার রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার নতুন দায়িত্বের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব রেবেকা খান, উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন এবং অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কাউন্সিলর রুবেন গ্রে ও প্রথম সচিব হ্যারি থম্পসন উপস্থিত ছিলেন।