স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছে ১৯২ আরবান হেলথ সেন্টার

দেশের বিভিন্ন নগরে নির্মিত ১৯২টি আরবান প্রাইমারি হেলথকেয়ার সেন্টার স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীনে হস্তান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত বা আংশিক ব্যবহৃত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে পুনরায় জনগণের সেবায় কার্যকর করা যাবে।

আজ বুধবার (৬ মে) সচিবালয়ে বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, একটি প্রকল্পের আওতায় ১২টি সিটি কর্পোরেশন ও ২৩টি পৌরসভায় এসব কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রকল্প চলাকালে কেন্দ্রগুলো থেকে নগরের বিপুল জনগোষ্ঠী সেবা পেলেও মেয়াদ শেষে অনেক কেন্দ্র অচল হয়ে পড়ে। জনবল সংকট, ব্যবস্থাপনার ঘাটতি ও তদারকির অভাবে সরকারি অবকাঠামো নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত ব্যবহার না হলে ভবন নষ্ট হয়। নতুন করে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় যুক্তিযুক্ত নয়। বিদ্যমান স্থাপনাগুলো কাজে লাগাতেই প্রধানমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠি জারির মধ্য দিয়েই হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কোনো জটিল আনুষ্ঠানিকতা রাখা হয়নি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা ইনভেন্টরি তৈরি করে সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনের কাছে কেন্দ্রগুলো হস্তান্তর করবে। এরপর রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা, মেরামত ও জনবল নিয়োগের দায়িত্ব নেবে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। তবে কতজন চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ হবে, তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগে নগরের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা সহজে সেবা পাবে, বড় হাসপাতালের ওপর চাপও কমবে।

গত ২২ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যে ১৯২টি কেন্দ্র হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পৌরসভার সিইও বা প্রশাসকরা হস্তান্তর বাস্তবায়ন করবেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে সর্বোচ্চ ৪১টি, ঢাকা দক্ষিণে ৩০টি, খুলনায় ২৮টি, রাজশাহীতে ১৭টি ও ঢাকা উত্তরে ১৫টি কেন্দ্র রয়েছে। বাকিগুলো অন্যান্য সিটি ও পৌরসভায়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করছি। সবাই আন্তরিক হলে দ্রুত সুফল মিলবে।