ভুয়া ফটোকার্ড বিতর্ক: ঢাবি শিবির নেতাকে শোকজ, তদন্তে ২ কমিটি

২৯

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাইমা রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ঢাবি শিবিরের সাবেক তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া, উদ্ভূত ঘটনায় তিন সদস্যের দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং হলের অভ্যন্তরে সব ধরনের দেয়াল লিখন ও গ্রাফিতি অঙ্কন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ফররুখ মাহমুদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ছাত্রশিবিরের সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নামে একটি এআই-সম্পাদিত বিকৃত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

এ ঘটনার পর ছাত্রদলের নেতারা তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। তবে মাহমুদ নিজের ফেসবুক আইডিতে জানান, তিনি ওই পোস্ট করেননি।

ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানারের অনুসন্ধানেও দাবি করা হয়েছে, মাহমুদের আইডির যে স্ক্রিনশটটি ছড়ানো হয়েছে, সেটি ভুয়া এবং অন্য একটি আইডি থেকে নিয়ে সম্পাদনা করে প্রকাশ করা হয়েছে।

এ ঘটনার জেরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে শোকজ করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলেছে।

এছাড়া, পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষক ড. মো. আনোয়ার হোসেনকে আহ্বায়ক, আবাসিক শিক্ষক জাওয়াদ ইবনে ফরিদকে সদস্য সচিব এবং সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মোসাদ্দেক খানকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

একই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ক্যাম্পাসে কতিপয় সংবাদকর্মীকে শাহবাগ থানায় মারধরের ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. শান্টু বড়ুয়াকে আহ্বায়ক করে আরো একটি তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটিকে আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।