ইবিতে শিক্ষিকাকে গলাকেটে হত্যা: পরপর দুই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

৫৩

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কার্যালয়ে গলাকেটে হত্যার ঘটনা ক্যাম্পাসজুড়ে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় একই কক্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে আত্মহননের চেষ্টারত অবস্থায় দেখতে পান শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখান থেকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, অভিযুক্ত ফজলুর রহমান পূর্বে সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। তবে বদলি মেনে নিতে না পেরে তিনি পুনরায় পূর্বের বিভাগে ফেরার জন্য বিভাগের সভাপতির কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। এতে সম্মতি না মেলায় ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ভবনের দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য জানান, নিচতলায় দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ‘বাঁচাও’ বলে চিৎকার শুনে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় পরে দরজা ভেঙে প্রবেশ করলে শিক্ষিকাকে মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় অভিযুক্ত নিজ গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছিলেন।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এর আগেও নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহকে হত্যা করে শাহ আজিজুর রহমান হলসংলগ্ন পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সিআইডির ফরেনসিক প্রতিবেদনে তার মৃত্যু শ্বাসরোধে হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

পরপর এমন নৃশংস ঘটনার পর ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর তদারকির ঘাটতি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহলে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও কার্যকর হলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারত।