যুদ্ধবিরতির মধ্যেই রাশিয়ার ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইউক্রেনে একদিনে নিহত ২০

ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একদিনে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। রয়টার্স জানায়, একের পর এক হামলায় ইউক্রেনজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার দিনিপ্রো শহরের প্রধান রেলস্টেশনে ড্রোন হামলায় ১৪ জন নিহত হন। যাত্রীবাহী ট্রেন ছাড়ার প্রস্তুতির সময় জেট ইঞ্জিনচালিত একটি ড্রোন প্ল্যাটফর্মে আঘাত হানে বলে রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা উক্রজালিজনিতসিয়া জানিয়েছে। প্ল্যাটফর্মে মরদেহ ও বিস্ফোরণের ধাতব টুকরা ছড়িয়ে পড়ে। একই শহরে শিক্ষার্থীদের আবাসিক ভবনে আগুন ধরে যায়। হামলায় ৩ লাখ ৫০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।

উত্তর ইউক্রেনের চেরনিহিভ শহরের ব্যস্ত সড়কে ড্রোন হামলায় দুই কিশোরী নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪টি শিশু রয়েছে। মধ্য ইউক্রেনের ক্রেমেনচুক শহরে আবাসিক ভবনে হামলায় ৩ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন। রাতে রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১ জন নিহত হয়েছেন, কয়েকটি গুদামে আগুন ধরে যায়। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব জাপোরিঝঝিয়া শহরে তিনটি ড্রোন বাসে আঘাত হানলে ৬ জন আহত হন।

মস্কো সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেৎস্কি বলেন, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে ট্রেন, রেলস্টেশন ও আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে, এর কোনো যুক্তি নেই। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও ইচ্ছাকৃত উল্লেখ করে বলেন, রাশিয়া নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি হামলা বন্ধে মিত্রদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। তার শীর্ষ উপদেষ্টা কিরিলো বুদানভসহ কর্মকর্তারা রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে ছয় দিনের স্থানীয় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে এটি শুধু ওই অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ। উভয় পক্ষ জানিয়েছে, মাইন অপসারণ শেষ হয়েছে, এখন ত্রাণ পাঠানো ও বাসিন্দাদের নিরাপদে বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

আগামী মাসে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।