এখনো জ্বলছে ইনানীর সেই নলকূপের আগুন, ১৪৪ ধারা জারি

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় বেরিয়ে আসা গ্যাসে লাগা আগুন নেভেনি। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগুনের উৎস থেকে ২০০ মিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পান্না আক্তার ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারা জারি করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইনানী ছোট খাল ব্রিজ-সংলগ্ন একটি বাড়িতে নলকূপ বসানোর কাজ চলছিল। মাটির প্রায় ১ হাজার ফুট গভীরে পাইপ ঢোকানোর সময় মাটি থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) একটি কারিগরি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগুনের উৎস ও সংলগ্ন এলাকাকে বিভিন্ন নিরাপত্তা জোনে ভাগ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নলকূপ থেকে গ্যাস নির্গত হওয়ার ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় আগুন জ্বালানো, ধূমপান এবং দিয়াশলাই বা লাইটার ব্যবহারসহ অগ্নিস্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে, এমন সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে ঘটনাস্থলে আগুনের উৎস থেকে আনুমানিক ২০০ মিটারের মধ্যে সর্বসাধারণের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি মাইকিংসহ ব্যাপক প্রচারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।