হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-মুলাদী অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে বাস্তবসম্মত যোগাযোগের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:  সম্প্রতি ভোলা ও বরিশাল অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভোলাবাসীর একাংশের পক্ষ থেকে এককভাবে সেতু নির্মাণের পক্ষে জোরালো দাবি তোলার পর এবার তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বরিশাল ও এর আশপাশের নদীবেষ্টিত একাধিক উপজেলার সচেতন নাগরিক ও সর্বস্তরের জনগণ।

 প্রতিবাদকারীরা বলছেন, বরিশাল থেকে ভোলা পর্যন্ত সরাসরি একটি বিশাল সেতু নির্মাণে যে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন, তার সুফল কেবল একটি জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, মাঝের বিস্তীর্ণ জনপদগুলোর বিশাল জনগোষ্ঠীকে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

বরিশাল থেকে ভোলা যাওয়ার পথে বাবুগঞ্জ, মুলাদী, হিজলা, কাজিরহাট থানা এবং মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ৫টি উপজেলা বা জনপদ রয়েছে। অথচ এই বৃহৎ অঞ্চলগুলোর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, যোগাযোগ সংকট এবং লাখ লাখ মানুষের যাতায়াতের কথা না ভেবে কেবল একপক্ষীয় দাবি তোলা বাস্তবসম্মত নয়। ​

সচেতন মহলের মতে, ভোলা-বরিশাল সরাসরি সেতু নির্মাণের ব্যয়ের তুলনায় যদি সংশ্লিষ্ট ৫টি উপজেলাসহ পুরো অঞ্চলের নদীপথ ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়ন এবং মাল্টিমোডাল যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়, তবে অধিকতর জনগণ সরাসরি উপকৃত হতে পারবে।

মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা ও মুলাদীর মতো নদীভাঙন ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন জনপদের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াত ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এই জনপদগুলোকে পাশ কাটিয়ে কেবল একমুখী দাবি তোলার বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল মহলের পক্ষ থেকে বাস্তবসম্মত বিকল্প ও অঞ্চলের সার্বিক ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থা বিবেচনা করে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তাকে সাধুবাদ জানিয়ে স্থানীয়রা বলছেন, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

অপরিকল্পিত ও ব্যয়বহুল একক মেগা প্রজেক্টের চেয়ে এই অঞ্চলের সামগ্রিক উপজেলাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা সময়ের দাবি। স্থানীয় প্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, কোনো বিশেষ অঞ্চলের একপেশে চাপে পড়ে গোটা দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য জনপদগুলোকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তাঁরা মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা ও মুলাদীসহ সংশ্লিষ্ট ৫টি উপজেলার মানুষের নায্য অধিকার এবং সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান। একইসঙ্গে অপরিকল্পিত চাপের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট ভারসাম্যপূর্ণ ও জনবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।,