এমবাপ্পের পেনাল্টি গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে শেষ আটে ফ্রান্স

ফিলাডেলফিয়ায় শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়লেও অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ফ্রান্স। পুরো ম্যাচে ৭৬ শতাংশ বলের দখল ধরে রেখে প্যারাগুয়ের গোলমুখে ১৫টি শট নেয় তারা। বিপরীতে প্যারাগুয়ের শট ছিল মাত্র ৫টি। পাসের হিসেবেও এগিয়ে ফরাসিরা- ৫৫২টি, প্যারাগুয়ের ছিল ১৭৫টি।

তৃতীয় মিনিট থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একের পর এক আক্রমণ সাজায় ফ্রান্স। ১১ মিনিটের মধ্যেই প্রায় ৯০ শতাংশ বলের দখল ছিল তাদের। ২৩ ও ৪২ মিনিটে পরপর কর্নার পেলেও গোলরক্ষক অরলান্ডো গিলের দৃঢ়তায় গোল পায়নি। ৩১ মিনিটে ওসমান ডেম্বেলের ক্রসে হেডের সুযোগ পেলেও বলে ঠিকমতো সংযোগ করতে পারেননি এমবাপ্পে। ৩৬ মিনিটে এমবাপ্পেকে ফাউলের ঘটনায় দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়।

প্রথমার্ধে ৭৮ শতাংশ বলের দখল ও ৬টি শট নিয়েও গোলের দেখা পায়নি ফ্রান্স। প্যারাগুয়ের দুটি শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বিরতিতে গোলশূন্য সমতায় মাঠ ছাড়ে দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধারা বজায় রাখে ফ্রান্স। ৫৫ মিনিটে মানু কোনোয়ের দূরপাল্লার শট দক্ষতার সঙ্গে ফেরান গোলরক্ষক গিল। ৫৮ ও ৬১ মিনিটে ইনজুরির কারণে ওমার আলদেরেতে ও হুলিও এনসিসো মাঠ ছাড়েন। একই সময়ে ব্র্যাডলি বারকোলার বদলি হিসেবে দেজিরে দুয়েকে নামায় ফ্রান্স।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় ৬৭ মিনিটে। বক্সে দুয়ে ফাউলের শিকার হলে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। ৭০তম মিনিটে স্পটকিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার সপ্তম গোল, যা দিয়ে তিনি লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় উঠে এসেছেন।

গোলের পর আক্রমণ বাড়ায় প্যারাগুয়ে। ৯০ মিনিটে মৌরিসিওর দূরপাল্লার শট ঠেকান ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেনিয়ান। যোগ করা সময়ে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পান এমবাপ্পে। ৯৬তম মিনিটে তার দুটি শটই দুর্দান্ত সেভ করে প্যারাগুয়েকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন গিল।

১০ মিনিট অতিরিক্ত সময় শেষে ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে ফ্রান্স। শেষ বাঁশি বাজার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলেও বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শেষ আটে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ মরক্কো, যারা কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে।