সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ আজাদ কাশ্মীর, নিহত বেড়ে ২৪

অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিতে উত্তাল পাকিস্তানের অধিকৃত আজাদ কাশ্মীর। বিক্ষোভ দমনে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগে এখন পর্যন্ত ২৪ জনের প্রাণ গেছে।

শনিবার (২০ জুন) এএফপি, স্কাই নিউজ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

১৯৪৭ সালে জম্মু-কাশ্মীরের আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিট-বাল্টিস্তান দখল করে পাকিস্তান। দুটিই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং সেখানে প্রাদেশিক বিধানসভা রয়েছে। আজাদ কাশ্মীর বিধানসভার ৪৫ আসনের মধ্যে ১২টি ভারতের জম্মু-কাশ্মীর থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত।

সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাতিল ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর দাবিতে গত ৫ জুন আন্দোলন শুরু করে আজাদ কাশ্মীরভিত্তিক রাজনৈতিক দল জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে)। ৯ জুন হরতাল ডাকার পর পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত শুরু হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় দুই সপ্তাহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত জেএএকের ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের ইট-পাটকেলে ৯৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও নিহত হয়েছেন।

আজাদ কাশ্মীরের পুলিশপ্রধান লিয়াকত আলী মালিক এএফপিকে বলেন, বিক্ষোভের মূল কেন্দ্র এখন রাওয়ালকোট শহর। মুজাফফরাবাদ থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে এই শহর। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি করেছে পুলিশ। শহরের প্রধান সড়ক ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ। সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিও সীমিত করা হয়েছে।

বিক্ষোভ-সংঘর্ষ ও কারফিউয়ের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে আজাদ কাশ্মীর। খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

মুজাফফরাবাদের বাসিন্দা মুহম্মদ মাসকিন এএফপিকে বলেন, ‘ওষুধের জন্য কয়েকদিন ধরে ঘুরছি, পাইনি। বড় বড় ফার্মেসিও বন্ধ। যেগুলো খোলা, সেগুলোর স্টক শেষ।’

সাবার হোসেন নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘গত আটদিন ধরে খুব কঠিন সময় যাচ্ছে। বাজার বন্ধ। শাক-সবজি ছাড়া কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না।’