হরমুজ প্রণালি অচল: সার সংকটে বিশ্বজুড়ে খাদ্য উৎপাদনে ধসের শঙ্কা

২৫

ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেছে। এর জেরে থমকে গেছে বৈশ্বিক সার সরবরাহ। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সারের চালান কার্যত শূন্যে নেমে আসায় বিশ্বজুড়ে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার (২ মে) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সংকটে সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় ফলন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। যার সরাসরি ধাক্কা লাগবে সাধারণ মানুষের খাবারের প্লেটে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরিওর ভাষ্য, “আমরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হেরে যাচ্ছি। এশিয়ার অনেক দেশেই বীজ বপনের সময় শেষ। কিন্তু জমিতে সার দেওয়ার উপায় নেই।”

সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র-ব্রাজিলের মতো বড় কৃষি রপ্তানিকারক দেশগুলো এখন গম-ভুট্টা বাদ দিয়ে সয়াবিনের মতো কম সার লাগে এমন ফসলের দিকে ঝুঁকছে। আবার অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় কেউ কেউ খাদ্যশস্যের বদলে জৈব জ্বালানি উৎপাদনকেও লাভজনক ভাবছেন।

“গম আর সয়াবিনের দাম এখনই চড়তে শুরু করেছে,” বলছিলেন তোরিও। “আগামী বছরটা আরও কঠিন হবে। খাদ্যপণ্যের দাম লাফিয়ে বাড়বে, মূল্যস্ফীতিও চড়া হবে। কারণ খাবারের দামের সঙ্গে জ্বালানির দাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত।”

শেষে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিটা দিন যাচ্ছে, সংকট আরও গভীর হচ্ছে। এটা আর শুধু পূর্বাভাস না, বাস্তবতা হতে চলেছে।”