সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

২৯

বাজার সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট তৈরির যেকোনো চেষ্টা কঠোর হাতে দমনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেউ যাতে ইচ্ছামতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে এবং মজুতদারি বা কারসাজির মাধ্যমে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত বাজার তদারকি আরও জোরদার করতে হবে।

জনমুখী প্রশাসন গড়ে তোলার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যেন হয়রানি বা অপ্রয়োজনীয় বিলম্বের শিকার না হয়, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে। ন্যায়বিচার সহজলভ্য করা এবং প্রতিটি নাগরিকের সমান সুযোগ নিশ্চিত করাও ডিসিদের কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় তিনি নির্দেশ দেন, ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার পাশাপাশি সার, বীজ ও সেচ সুবিধা সহজলভ্য করতে হবে। কৃষিকে শুধু উৎপাদনের খাত হিসেবে না দেখে গ্রামীণ অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনার পরামর্শ দেন তিনি।

জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ধ্যা ৭টার পর মার্কেট ও বাণিজ্যিক এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধে জেলা প্রশাসকদের সতর্ক থাকতে হবে। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম আরও নিয়মিত ও দৃশ্যমান করার নির্দেশ দেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, বাল্যবিবাহ ও নারী-শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে প্রশাসনিক ভূমিকার পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। খাদ্যে ভেজাল রোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি।

তরুণদের বিপথগামী হওয়া ঠেকাতে বছরজুড়ে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালুর নির্দেশ দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, শুধু নির্দিষ্ট দিবস বা ঋতুতে নয়, স্কুল-কলেজে বিতর্ক ও খেলা সারা বছর চালু রাখতে হবে। জেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও অডিটোরিয়ামগুলো তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে কাজে লাগাতে হবে।

ভালো কাজের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, জীবন বাজি রেখে কাউকে উদ্ধার বা সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা ব্যক্তিদের নাম কেন্দ্রে পাঠালে জাতীয়ভাবে পুরস্কৃত করা হবে। ভালো পারফরম্যান্স দেখানো শিক্ষকদেরও পুরস্কারের আওতায় আনার পরিকল্পনা আছে। তিনি বলেন, ছোটবেলার সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে। মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও প্রকৃতির প্রতি দয়া ফিরিয়ে আনতে ছোট উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক ও নৈতিক রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম, বর্ণ, মত বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য থাকবে না এমন বাংলাদেশই আমাদের লক্ষ্য। তিনি স্বীকার করেন, সমাজে শতভাগ বৈষম্য দূর করা কঠিন, তবে সরকার তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।

সবশেষে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, মতভেদ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু দেশের স্বার্থে সবার আগে বাংলাদেশ। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।