যেকোনো জেলায় দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত থাকুন, ডিসিদের বললেন প্রধানমন্ত্রী

৩৩

জনপ্রশাসনের কোনো পদ চিরস্থায়ী নয় বলে মনে করিয়ে দিয়ে জেলা প্রশাসকদের দেশের যেকোনো প্রান্তে কাজ করার মানসিকতা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। নির্বাচনি ইশতেহার এবং জনগণের সামনে ঘোষিত জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, দেশে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে সাধারণ মানুষের কষ্ট না বাড়িয়ে সমাধানের পথ খুঁজছে সরকার।

সন্ধ্যা ৭টার পর মার্কেট ও শপিংমলে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সতর্ক থাকতে ডিসিদের দৃষ্টি দিতে বলেন তারেক রহমান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনপ্রশাসনের প্রতিটি দায়িত্বই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের মতো প্রশাসনের পদও স্থায়ী নয়।

এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে সচিবালয়ের কার্যালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানালে তিনিও হাত নেড়ে সাড়া দেন।

চার দিনের এই সম্মেলন চলবে ৬ মে পর্যন্ত। এবার মোট ৪৯৮টি প্রস্তাব উঠবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির জানান, আগেরবারের চেয়ে এবার এক দিন বেশি সম্মেলন হবে।

সম্মেলনে ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকার, দুর্যোগ মোকাবিলা, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা, ই-গভর্ন্যান্স, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে। ডিসিরা রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও দুদকের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবেন।

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মোট ৩৪টি অধিবেশন হবে। এর মধ্যে ৩০টি কার্য অধিবেশন। জেলা প্রশাসকদের পাঠানো ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব থেকে ৪৯৮টি বাছাই করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে এসেছে সর্বোচ্চ ৪৪টি প্রস্তাব। জনসেবা বাড়ানো, ভোগান্তি কমানো, সড়ক-সেতু নির্মাণ, পর্যটন, আইন সংশোধন ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

সম্মেলনের অংশ হিসেবে ৩ মে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি, ৪ মে সংসদ ভবনে স্পিকার এবং ৫ মে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ডিসিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ হবে।