ইবির ভিসির দৌড়ে অনৈতিক কাজে অভিযুক্ত শিক্ষক মতিনুর রহমান

২৬

আওয়ামী সরকার পতনের পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগে তদবির শুরু করেছেন প্রার্থীরা। এ নিয়ে নানা আলোচনা এখন তুঙ্গে। প্রার্থীদের নিয়েও চলছে সমালোচনা। উঠে আসছে তাদের অতীত কর্মকাণ্ড।

সাতজন শিক্ষক ভিসি হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। তিনি হলেন, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও ইবিতে জিয়া পরিষদ ভেঙে করা সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মতিনুর রহমান।

জিয়া পরিষদের একাধিক শিক্ষক ও বিগত দিনে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ড. মতিনুর রহমান ২০০১ সালের ১৭ আগস্ট মদ খেয়ে গভীর রাতে ছাত্রী হলের সামনে প্রায় বিবস্ত্র অবস্থায় মাতলামি করতে থাকেন। সেসময়ে মাতাল অবস্থায় হলে ঢোকার চেষ্টা, মদের বোতল দিয়ে পুলিশ পিটানো ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করারও অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা, রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে বাধা ও সরকারি সম্পত্তি বিনষ্টের অভিযোগে ইবি থানায় মতিনুরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ।

এছাড়া, ভালো ফলাফলের বিনিময়ে নিজ বিভাগের এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরে ওই ছাত্রীকে ভালো ফলাফলের প্রলোভন দেখিয়ে বশে আনেন তিনি। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক করারও স্বপ্ন দেখান মতিনুর। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে ওই ছাত্রীর রেজাল্ট ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়। বেপরোয়া জীবনসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে হল থেকে ২০১৪ সালের ২৪ মার্চ ওই ছাত্রীকে বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ। এদিকে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ড. মতিনুরের অধীনে ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে সাজিদ হোসেন নামের এক এম ফিল গবেষক ভর্তি করার ঘটনায় ক্যাম্পাসে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এছাড়া বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্স এমডিএস’র সমন্বয়কারী থাকা অবস্থায় অর্থ-আত্মসাতের ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় অধ্যাপক মতিনুরকে পদচ্যুত করা হয়। জানা যায়, জোট সরকারের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মতিনুর রহমান বিভিন্ন সময় বিএনপিপন্থিদের ভেতর দলাদলি ও ভাঙন সৃষ্টি করেন। প্রথমে তিনি জিয়া পরিষদ ভেঙে পেশাজীবী পরিষদ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এরপরে আবার জিয়া পরিষদে ফিরে আসেন। সম্প্রতি জিয়া পরিষদ ভেঙে সাদা দল তৈরি করেন।

অভিযোগ ওঠে, আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের যোগসাজশে তিনি শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে সাদা দলের প্যানেল দেন। ফলে, বিএনপিপন্থিদের ভোট বিভক্ত হয়ে শিক্ষক সমিতি হারায় ইবির জাতীয়তাবাদীরা। এদিকে জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ড. এমতাজ হোসেনও ভিসি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এমন তথ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

এছাড়া ভিসি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলীনূর রহমান, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. নজিবুল হক, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন এবং আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী।