নারী কর্মীদের ছোট দৈর্ঘ্যের পোশাক পরিহার করতে বললো বাংলাদেশ ব্যাংক

Central bank
৮৮

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন পোশাকবিধি চালু করেছে, যার লক্ষ্য একটি শালীন, পেশাদার ও সুশৃঙ্খল কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা। গত ২১ জুলাই, ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ-২ থেকে এই সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।

নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে—এই পোশাকবিধি ভঙ্গ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হবে। তদারকির জন্য আলাদা কর্মকর্তাও মনোনীত হবেন।

পুরুষ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ফরমাল শার্ট (লম্বা হাতা অথবা হাফ হাতা), সঙ্গে ফরমাল প্যান্ট পরার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জুতা বা স্যান্ডেলও হতে হবে ফরমাল ধাঁচের। জিনস ও গ্যাবার্ডিন প্যান্ট পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

নারী কর্মীদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ ও ওড়না-অথবা অন্যান্য পেশাদার ও শালীন পোশাক।
এই পোশাকগুলো সাদামাটা ও পেশাদার রঙের হতে হবে।
ফুটওয়্যারের ক্ষেত্রে ফরমাল স্যান্ডেল বা জুতা, এবং হেডস্কার্ফ বা হিজাবের ক্ষেত্রেও সাদামাটা ও শালীন রঙ বজায় রাখতে হবে।

 শর্ট স্লিভ বা ছোট দৈর্ঘ্যের ড্রেস এবং লেগিংস পরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনার ১১ নম্বর ধারায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক উল্লেখ করা হয়েছে:

  • নারী কর্মীদের প্রতি আচরণ হতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংক স্টাফ রেগুলেশন ২০০৩-এর ৩৯ ধারা অনুসারে।

  • যৌন হয়রানি সংক্রান্ত অভিযোগ ঘটনার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নির্দিষ্ট কমিটির কাছে পাঠাতে হবে।

  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আচরণ হবে মানবসম্পদ বিভাগ ২-এর পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনার আলোকে।

  • পেশাদার কর্মপরিবেশ তৈরির জন্য জোর দেওয়া হয়েছে সততা, শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, আন্তরিকতা ও পারস্পরিক সম্মানের ওপর।

এই নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে অফিস, বিভাগ, প্রকল্প, ইউনিটভিত্তিকভাবে একজন করে পর্যবেক্ষণকারী কর্মকর্তা মনোনীত করা হবে। তাঁরা নজর রাখবেন, কর্মীরা পোশাকবিধিসহ অন্যান্য আচরণবিধি মানছেন কি না।

ব্যত্যয় ঘটলে সেই কর্মকর্তার দায়িত্ব হবে বিভাগীয় প্রধানকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা।

দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত কর্মপরিবেশে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। কর্মক্ষেত্রে পোশাক শুধু বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা নয়, এটি দায়িত্ববোধ ও পেশাগত মানসিকতার প্রতিফলনও—এমন বার্তা দিচ্ছে নতুন এই নির্দেশনা।