পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পেয়ে আবেগাপ্লুত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা

১৫

সিলেটের লালদীঘি হকার্স মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া দোকানপাট পরিদর্শন করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা দ্রুত তৈরি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের নির্দেশ দেন তিনি।

আজ সোমবার (২ মে) বেলা একটার দিকে তিনি নগরের বন্দর বাজার সংলগ্ন লালদিঘী হকার্স মার্কেট পরিদর্শনে যান।

তিনি অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া ব্লকগুলো ঘুরে দেখেন। আধা ঘণ্টার বেশি সময় তিনি সেখানে অবস্থান করেন। এ সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবুর রহমান তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। মন্ত্রী তাদের শান্তনা দেওয়ার পাশাপাশি আশ্বস্ত করে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াবে সরকার। সবকুটু না হলেও যথাসাধ্য সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে। ’

এ সময় তিনি ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসকের কাছে দিলে তিনি তা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠালে সেখান থেকে সহায়তা প্রদান করা হবে। ’ এর আগেই তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন তিনি।

দুর্যোগকালীন যাতে ফায়ার সার্ভিসহ বিভিন্ন সংস্থার যানবাহন সহজে প্রবেশ করতে পারে সেজন্য হকার্স মার্কেটের গলিগুলো প্রশস্ত করার নির্দেশন দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতার প্রশংসা করে বলেন, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর আমাদের ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা যেভাবে জীবন বাজি রেখে কাজ করেছেন তা অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার। জানতে পেরেছি- আগুন নেভাতে গিয়ে তিন জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী আহত হন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা আবার নব উদ্যমে আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এটাই তাদের সেবা, কমিটমেন্ট ও আদর্শ। ’ সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আগুন লাগার খবরে দ্রুত ছুটে এসে যে ভূমিকা রেখেছেন তারও প্রশংসা করেন তিনি।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবুর রহমান জানান, আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের কিছু আর্থিক সহযোগিতা ও শুকনো খাবার দেওয়া হবে। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত হবে।

রবিবার দিবাগত রাত সোয়া তিনটার দিকে সিলেট নগরের লালদিঘী হকার্স মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। প্রথমে মার্কেটের ৫ নম্বর গলির একটি দোকানে আগুন লাগে। অল্প ব্যবধানে তা আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সিলেটের ৯ ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। কিন্তু আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় পার্শ্ববর্তী ফায়ার স্টেশনগুলোতেও সাহায্য চাওয়া হয়। এরপর একে একে ওসমানীনগর, গোলাপগঞ্জসহ বিভিন্ন স্টেশনের আরো ইউনিট এসে আগুন নেভানোর কাজে হাত দেয়। মোট ১৭ ইউনিটের সোয়া দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর ৫টা ২৩ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মার্কেটের ৫নং গলির একটি দোকানে প্রথম আগুন লাগলেও মুহূর্তে তা আশপাশের দোকান ও গলিতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে মার্কেটের ৫, ৬, ৭ নং গলির বেশিরভাগ দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ ছাড়া ১, ৩ ও ৪নং গলির বেশ কয়েকটি দোকান ভস্মীভূত হয়।