ছয় মাসে পাঁচ বিভাগে চালু হচ্ছে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল

আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করছে সরকার। এর মধ্যে বরিশাল ও খুলনার হাসপাতাল দুটি আগস্টের শুরুতেই চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি হাসপাতালে আইসিইউ, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ থাকবে। বড় পরিসরের আইসিইউ ইউনিটও রাখা হচ্ছে।

হাসপাতালগুলোর আসবাব ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার দরপত্র ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।

পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করতে প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবল লাগবে। প্রয়োজনীয় নিয়োগ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ইতোমধ্যে খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লার হাসপাতাল ভবন পরিদর্শন করেছেন। বরিশাল শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি আগস্টের শুরুতে এটি চালুর ঘোষণা দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্সরে মেশিন, পোর্টেবল এক্স-রে, কার্ডিয়াক মনিটর, ফটোথেরাপি মেশিনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি জুলাইয়ের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। ১ আগস্ট হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হবে।

এর আগে ১০ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে দেশের ছয় বিভাগে অব্যবহৃত ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সরেজমিন পরিদর্শন করে ২ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেন। এরপরই হাসপাতালগুলো চালুর তোড়জোড় শুরু হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ বিভাগে ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসব হাসপাতালে আইসিইউ থাকবে। ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতির টেন্ডার শেষ হয়েছে। জনবল বরাদ্দের জন্য প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি হাসপাতালে আইসিইউর জন্য বড় স্পেস রাখা হবে এবং ভবিষ্যতে বেড বাড়ানোর পরিসর থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারও বরিশাল শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, আগস্টে প্রথম ধাপে জরুরি বিভাগ চালু হবে।

২০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনা শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করে ছয় মাসের মধ্যে চালুর আশা প্রকাশ করেন। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৫ মে কুমিল্লার বেলতলীতে নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এটিও ছয় মাসের মধ্যে চালুর ঘোষণা দেন।

ছয় বছর অব্যবহৃত থাকার পর চালু হচ্ছে রংপুর শিশু হাসপাতালও। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, শুধু এই পাঁচটি নয়, স্বাস্থ্য বিভাগের আরও অনেক স্থাপনা চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান হাসপাতাল চালুর জন্য জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র জমা দিয়েছেন।

রাজশাহী শিশু হাসপাতাল আগামী তিন মাসের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন। সচিব জানান, প্রথম ধাপে আউটডোর সেবা চালু হবে। পরবর্তী অর্থবছরে ধাপে ধাপে অন্য সেবা চালু হবে।