টাঙ্গাইলে দুই গ্রামের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: বৃদ্ধ নিহত, ১৪৪ ধারা জারি

১০ বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ-লুটপাট ও শতাধিক দোকানে হামলা; পুলিশসহ আহত ২০

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের গোপালপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে কালাম তালুকদার (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

আজ শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত উপজেলার নলীন ও জগৎকুড়া এলাকায় এ আদেশ কার্যকর থাকবে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। নিহত কালাম তালুকদার উপজেলার জগৎকুড়া গ্রামের বাসিন্দা।

ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ জানান, কালাম তালুকদারকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুরু করে টানা চার ঘণ্টাব্যাপী গোলপেঁচা ও জগৎকুড়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এই সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। এ সময় ১০টি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং গরু-বাছুর, গোলার ধান ও গৃহস্থালি সামগ্রী লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এরপর রাত ৮টার দিকে গোপালপুরের নলীন বাজারে হামলা চালিয়ে শতাধিক দোকানপাট ভাঙচুর ও লুট করা হয়।

গোপালপুরের হেমনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামছুল আলম জানান, মাসখানেক আগে দোকানে বাকি চাওয়াকে কেন্দ্র করে গোপালপুরের গোলপেঁচা এবং ভূঞাপুরের জগৎকুড়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রথম সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় অর্জুনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নিয়ামত আলী খানসহ ১০-১২ জন আহত হন। পরবর্তীতে জগৎকুড়াবাসী গোলপেঁচা গ্রামে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

এরই জেরে গতকাল সন্ধ্যার পর জগৎকুড়া গ্রামের কয়েকশত মানুষ লাঠিসোটা ও রামদা নিয়ে গোলপেঁচা গ্রামে পাল্টা হামলা চালায়। এতে নারী ও শিশুসহ অনেকেই আহত হন। আহতদের মধ্যে হেমনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

অপরদিকে জগৎকুড়া গ্রামের বাসিন্দা ও নলীন বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, রাত ৮টার পর হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া গ্রামের কয়েকশো মানুষ নলীন বাজারে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা বেছে বেছে জগৎকুড়া গ্রামের ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার মালামাল খোয়া গেছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।

ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাব্বির রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তবে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

ভূঞাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব হাসান জানান, গতকাল রাতে এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে পুনরায় সংঘর্ষের ডাক দিয়ে এলাকায় মাইকিং করে। এতে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ সকাল থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।