বাথরুমে ধর্ষণ, খাটের নিচে লাশ: রামিসা হত্যায় দুজনের স্বীকারোক্তি

২৭

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়। মূল অভিযুক্ত সোহেল রানার সঙ্গে আরও একজন এ অপরাধে জড়িত ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে হাজির করা হলে সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

একই মামলায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত কারাগারে পাঠান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া রিপন জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্বপ্না ঘরের একটি কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন। সোহেল বাইরে থেকে সিটকিনি লাগিয়ে দেন। এরপর সহযোগীসহ রামিসাকে জোর করে ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। চিৎকার করতে চাইলে ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে বাথরুমে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। অচেতন হয়ে পড়লে শিশুটিকে হত্যা করা হয়।

পুলিশ জানায়, লাশ গুম করতে ধারালো অস্ত্রে মাথা আলাদা করে বালতিতে রাখা হয়। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

খোঁজাখুঁজির সময় ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতা দেখে স্বজনরা ডাকাডাকি করেন। সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের নিয়ে দরজা ভাঙার চেষ্টা করেন। হৈচৈয়ে স্বপ্নার ঘুম ভাঙলে সোহেল দরজা খুলে দেন। স্বপ্না বাইরে এসে রক্তাক্ত লাশ দেখেন। তবে স্থানীয়দের ভেতরে ঢুকতে না দিয়ে স্বামী ও সহযোগীকে জানালা ভেঙে পালাতে সাহায্য করেন। পরে স্থানীয়রা ঘরে ঢুকে স্বপ্নাকে আটকে পুলিশে খবর দেন।

জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগীর নাম জানা গেলেও তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তা প্রকাশ করেনি। এজাহারে তাকে ‘অজ্ঞাতনামা’ উল্লেখ করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

নিহত রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। বুধবার তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সোহেল রানা, স্বপ্না আক্তারসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।