আজ বিশ্ব মা দিবস, মায়ের তুলনা অতুলনীয়

৪১
আজ বিশ্ব মা দিবস, মায়ের তুলনা অতুলনীয়

বিশেষ প্রতিবেদক | আজ মে মাসের দ্বিতীয় রোববার; বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘মা দিবস’। মা—পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর ও সহজ একটি ডাক। এই একটি শব্দের সঙ্গেই মিশে আছে অকৃত্রিম ভালোবাসা, মমতা আর চিরন্তন নিরাপত্তা। জীবনের কঠিন পথে চলতে গিয়ে সামান্য হোঁচট খেলে কিংবা ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠলে অবলীলায় আমাদের মুখ থেকে যে শব্দটি বেরিয়ে আসে, তা হলো ‘মা’। মা মানেই পৃথিবীর সবচেয়ে নির্ভরতার আশ্রয়।

অনেকের মতে, মায়ের প্রতি ভালোবাসার জন্য আলাদা কোনো দিবসের প্রয়োজন নেই। কারণ আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তেই মায়ের অবদান অনস্বীকার্য। তবে কর্মব্যস্ত জীবনে মাকে ভালোবেসে একটি দিন বিশেষভাবে উৎসর্গ করায় নেতিবাচক কিছু নেই। তাকে বিশেষ অনুভব করানোর জন্য এটি একটি চমৎকার সুযোগ। আজ সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে মায়ের সঙ্গে ছবি আপলোড করে ভালোবাসা ও নিজেদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করছেন অসংখ্য মানুষ।

কবি কাদের নেওয়াজের ভাষায়—

“মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু জেনো ভাই,

ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই।

সত্য ন্যায়ের ধর্ম থাকুক মাথার’ পরে আজি,

অন্তরে মা থাকুক মম, ঝরুক স্নেহরাজি।”

শৈশবে মায়ের হাত ধরে প্রথম কদম বাড়ানো, মায়ের চোখ দিয়ে পৃথিবী চেনা কিংবা ভয়ের মুহূর্তে মুরগির ছানার মতো মায়ের আঁচলে মুখ লুকানো—এমন অসংখ্য স্মৃতি আমাদের প্রত্যেকের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যৌবনের প্রতিটি ধাপে মায়ের এই স্মৃতি ও আশীর্বাদই আমাদের সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায়।

ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট

মা দিবসের প্রচলন হয়েছিল ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে। আমেরিকার স্কুল শিক্ষিকা আনা জার্ভিস তাঁর মা অ্যান মেরি রিভস জার্ভিসের মৃত্যুর পর ১৯০৫ সালে এই দিবসের প্রচার শুরু করেন। নিজের মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও দেশজুড়ে থাকা সব মাকে সম্মান জানাতে তাঁর এই সংগ্রাম শুরু হয়েছিল। শুরুতে মার্কিন কংগ্রেস এই প্রস্তাব খারিজ করলেও আনা জার্ভিস থেমে থাকেননি। পরবর্তীতে আমেরিকার সব প্রদেশ এই প্রস্তাব গ্রহণ করে এবং দিনটিকে ছুটির দিন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এভাবেই বিশ্বজুড়ে মা দিবসের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

আজকের এই বিশেষ দিনে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা। প্রতিটি মা সুস্থ ও সুন্দর থাকুক—এই হোক আজকের প্রত্যাশা।