কেন স্পেস স্যুট পড়তে হয় নভোচারীদের, জানলে অবাক হবেন

১১

মহাকাশের অসীম শূন্যতায় নভোচারীদের জীবন রক্ষা করার একমাত্র ঢাল হলো তাদের স্পেস স্যুট। এটি কেবল একটি পোশাক নয়, বরং এটি একটি ছোটখাটো ‘ব্যক্তিগত মহাকাশযান’।

মহাকাশে বায়ুমণ্ডল নেই, নেই অক্সিজেন বরং আছে প্রচণ্ড তেজস্ক্রিয়তা আর তাপমাত্রার চরম ওঠা-নামা। এই বৈরী পরিবেশে নভোচারীদের টিকিয়ে রাখতে স্পেস স্যুট এক অভাবনীয় প্রকৌশল।

নিচে স্পেস স্যুটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হলো:

১. এক জটিল সুরক্ষা ব্যবস্থা
​একটি পূর্ণাঙ্গ স্পেস স্যুট মূলত নভোচারীকে পৃথিবীর মতো একটি কৃত্রিম পরিবেশের মধ্যে রাখে।

এর প্রধান কাজগুলো হলো:

অক্সিজেন সরবরাহ: নভোচারীদের শ্বাস নেওয়ার জন্য স্যুটটি সার্বক্ষণিক অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং নিঃশ্বাসের সাথে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড সরিয়ে ফেলে।

চাপ নিয়ন্ত্রণ: মহাকাশে কোনো বায়ুমণ্ডলীয় চাপ নেই। স্যুটের ভেতরে নির্দিষ্ট বায়ুচাপ বজায় রাখা হয় যাতে শরীরের রক্ত ও তরল ফুটে না যায়।

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: মহাকাশে রোদ থাকলে তাপমাত্রা হতে পারে ১২১°C পর্যন্ত, আবার ছায়ায় তা নেমে যেতে পারে -১৫৭°C-এ। স্পেস স্যুট এই চরম অবস্থা থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

২. স্যুটের বিভিন্ন স্তর
​একটি আধুনিক স্পেস স্যুট তৈরিতে প্রায় ১৪টি স্তর ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

অভ্যন্তরীণ স্তর: এটি মূলত আরামদায়ক কাপড়ের তৈরি, যা শরীরের ঘাম নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রেসার ব্লাডার: এই স্তরটি স্যুটের ভেতর বায়ুচাপ ধরে রাখে।

থার্মাল প্রোটেকশন: তেজস্ক্রিয়তা এবং অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচতে স্পেস স্যুটের বাইরের অংশ সাধারণত সাদা রঙের হয়, যা সূর্যের তাপ প্রতিফলিত করে।

৩. ব্যাকপ্যাক বা লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম
​নভোচারীদের পিঠে যে বড় ব্যাগটি দেখা যায়, সেটিকে বলা হয় Primary Life Support System (PLSS)। এটিই হলো স্যুটের আসল প্রাণকেন্দ্র। এখান থেকেই অক্সিজেন প্রবাহ, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং যোগাযোগ যন্ত্র নিয়ন্ত্রিত হয়।

৪. হেলমেট এবং ভিজর
​স্পেস স্যুটের হেলমেটটি অত্যন্ত শক্ত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। এর সামনের কাঁচ বা ভিজরটি সাধারণত স্বর্ণের পাতলা প্রলেপ দিয়ে ঢাকা থাকে। এই সোনালী স্তরটি সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মিকে চোখ ও ত্বকের ক্ষতি করতে বাধা দেয়।

আধুনিক বিবর্তন
​বর্তমানে নাসা (NASA) এবং স্পেস-এক্স (SpaceX) আরও উন্নত ও হালকা ওজনের স্যুট তৈরি করছে। মঙ্গল অভিযান বা চাঁদে দীর্ঘ সময় থাকার জন্য এখন এমন সব স্যুট ডিজাইন করা হচ্ছে যা আগের তুলনায় অনেক বেশি নমনীয়, ফলে নভোচারীরা আরও সহজে চলাফেরা করতে পারবেন। মহাকাশ বিজ্ঞানের এই বিস্ময়কর উদ্ভাবনই মানুষকে পৃথিবীর বাইরে অজানাকে জানার সাহস যুগিয়ে চলেছে।